সংসারে সচ্ছলতা আনতে সাড়ে ৪ লাখ টাকা ঋণ-ধার করে ৮ মাস পূর্বে বাহরাইন ছুটে গিয়েছিলেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ২নং চৌয়ারা ইউনিয়নের বড় বামিশা গ্রামের জয়নাল আবেদীনের পুত্র মফিজুল ইসলাম (২৮)। তার সেই স্বপ্নের সাথে পরিবারের সদস্যদের স্বপ্নেরও সমাধি হয়ে গেছে গত শুক্রবার বাহরাইনের রাজধানী মানামার মুকারকা এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে।
মঙ্গলবার দুপুরে বড় বামিশায় তার বাড়ি গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে ছিলেন সকলের বড়। ৮ মাস পূর্বে সাড়ে ৪ লাখ টাকা দেনা-ঋণ করে বাহরাইন গিয়ে ছিলেন। এ যাবত্ মাত্র ২৫ হাজার টাকা পাঠিয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। বৃদ্ধ পিতা জয়নাল আবেদীন ও মাতা মোরশেদা বেগম যাকে পাচ্ছেন তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন। তাদের সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না মানুষ। বড় ছেলেকে হারিয়ে তারা এখন পথ দেখছেন না । বর্তমানে তাদের প্রায় ৮ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। জায়গা-জমি বলতে ভিটেবাড়ি ছাড়া আর কিছু নেই। গত শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টায় সর্বশেষ বাড়িতে সে মোবাইলে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেছেন। স্ত্রী হালিমা আক্তার তন্বী ১১ মাস বয়সী একমাত্র পুত্র শাওনকে কোলে নিয়ে অঝোরে কেঁদে চলেছেন। মাত্র আড়াই বছর পূর্বে মফিজ চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামে বিয়ে করেন। তার বাবা-মা এবং পরিবারের সদস্যরা তার লাশ বাড়িতে আনার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।
জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন জানান, মঙ্গলবার তাদের খোঁজ নেয়া হয়েছে। নিহতের লাশ দেশে আনা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সহায়তা প্রদানে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান।
