চট্টগ্রামে চালসহ নিত্যপণ্যের বাজার ঊর্ধ্বমুখী

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৮
চট্টগ্রামে মাছ, মুরগি, ডিম, চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার ঊর্ধ্বমুখি। পাইকারি বাজারে চালের দাম মান ভেদে প্রতি বস্তায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে। ভরা মৌসুমেও শীতকালীন সবজির দাম কমছে না। বাজারে প্রচুর সরবরাহ থাকলেও দাম চড়া। চালের আমদানিকারকরা জানান, গত ৬-৭ মাস ধরে আমদানি করা চালে বস্তাপ্রতি (২ মণ) ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা লোকসান দিতে হয়েছে। তাই লোকসান কাটাতে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এ প্রসঙ্গে চাক্তাই চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর আজম ইত্তেফাককে বলেন, প্রতিবছর এই সময়ে চালের দাম বাড়তি থাকে। দেশি চালের দাম প্রতি বস্তায় (২ মণ) ২০০ টাকা ও বিদেশি চালের দাম ৩০০ টাকা করে বেড়েছে। ফলে খুচরা বাজারে চাল কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। খুচরা বাজারে মিনিকেট চাল প্রতিকেজি ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা, নাজিরশাইল ৪২ থেকে ৪৫ টাকা, স্বর্ণা ২৮ থেকে ৩০ টাকা ও চিনিগুড়া ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চট্টগ্রামে সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, সীতাকুন্ড, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়ায় ব্যাপক শীতকালীন সবজির চাষ হয়ে থাকে। এসব এলাকার পাইকারি বাজার থেকে বিভিন্ন সবজি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হয়ে থাকে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এ বছর শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু তারপরও চট্টগ্রাম শহরে সবজির দাম চড়া। খুচরা বিক্রেতারা জানান, মধ্যস্বত্বভোগী ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারে সবজির দাম কমছে না। এ প্রসঙ্গে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর চট্টগ্রামের মার্কেটিং অফিসার ইমাম হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে ভরা মৌসুমেও সবজির দাম কমছে না। উত্পাদনকারী থেকে খুচরা বাজারে বিক্রি পর্যন্ত কয়েক দফায় হাত বদল হয়। যারা পরিশ্রম করে পণ্য উত্পাদন করে সেই কৃষক ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না।’ নগরীর বহদ্দারহাট ও চকবাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফুলকপি ৪০-৪৫ টাকা, বাধাকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৬০ টাকা, আলু ৩৫ টাকা, শিম ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, মূলা ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেঁয়াজের দামও হঠাত্ বেড়ে গেছে। পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, রসুন ১০০ টাকা, আদা ৮০ থেকে ৯০ টাকা। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, গত ১০-১২ দিনের মধ্যে এসব পণ্যের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। মাছ ও মুরগির দামও হঠাত্ করে বেড়ে গেছে। শীতের তীব্রতায় বিভিন্ন এলাকায় মুরগি মারা যাচ্ছে। এই কারণে মুরগির দাম বেড়েছে বলে বিক্রেতারা জানান। মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। ফার্মের মুরগি ১৫৫ টাকা ও দেশি মুরগি ৩২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। আড়তদার মাছ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম জানান, সাগরে এখন মাছ কম পাওয়া যাচ্ছে। ডাকাতি বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই সাগরে ট্রলার নিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে। মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে বলে জানান তিনি। সাগরের মাছ কমে যাওয়ায় পুকুরের মাছের দাম বেড়েছে। পুকুরের রুই-কাতলা ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, মিয়ানমার থেকে আসা রুই ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ২০০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৫০ টাকা, চিংড়ি আকার ভেদে ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা, রূপচাঁন্দা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, বাটা মাছ ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।