মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণ তিন দিনে তিন লাখ নিবন্ধন

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৮
মালয়েশিয়ায় সরকারিভাবে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগে আগ্রহীদের নাম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে প্রথম ধাপে তিনদিনে প্রায় সোয়া তিন লাখ আগ্রহী ব্যক্তি তাদের নাম নিবন্ধন করেছেন। এই দুই বিভাগ থেকে আড়াই হাজারের মতো লোককে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে। সেই হিসেবে প্রতি একজনের জায়গায় নিবন্ধন করেছেন প্রায় ১৩০ জন। আজ বুধবার লটারির মাধ্যমে এদের নির্বাচন করা হবে। বিভিন্ন জায়গায় আগ্রহীরা নাম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা প্রদানসহ নানা হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় তিন বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে কর্মী নিতে রাজি হয়েছে মালয়েশিয়া। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম দফায় বনায়ন খাতে ১০ হাজার কর্মী নিতে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে দেশটি। জেলা কোটা হিসেবে সারাদেশ থেকে নিবন্ধিতদের মধ্য থেকে এই ১০ হাজার কর্মী লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে। ৫০ টাকার বিনিময়ে ইউনিয়ন তথ্য সেবাকেন্দ্র থেকে নিবন্ধন চলছে। নিবন্ধনের বিষয়টি তদারক করছে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)। গত রবিবার ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে তিনদিনের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিনে এ দুই বিভাগে ৪৩ হাজার ৭১০ জন নাম নিবন্ধন করেন। পরে সোমবার ও মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত তা ৩ লক্ষ ছাড়িয়ে যায়। বিএমইটি’র প্রশিক্ষণ ও মান উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক ড. নুরুল ইসলাম বলেন, আগ্রহীদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। গতকাল বিকাল পর্যন্ত ৩ লাখ ১৬ হাজার ৮শ’ ৯ জন তাদের নাম নিবন্ধন করেন। এছাড়া অনেক লোক লাইনে ছিলেন। তাদের নিবন্ধন হলে সব মিলিয়ে এ সংখ্যা সোয়া ৩ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। তিনি বলেন, এই দুই বিভাগ থেকে কোটা অনুযায়ী আড়াই হাজারের মতো লোক প্রথম ধাপে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে মালয়েশিয়ায় বনায়ন কাজের আবার সুযোগ হলে এবার বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্য থেকেই নির্বাচন করা হবে। এজন্য তাদের পুনরায় নিবন্ধনের প্রয়োজন হবে না। ভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে সবাইকে নতুনভাবে আবেদন করতে হবে। এদিকে আজ থেকেই রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগে নাম নিবন্ধন শুরু হচ্ছে। এ তিন বিভাগে লটারি হবে ১৯ জানুয়ারি। এছাড়া খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯ থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত নিবন্ধন এবং ২২ জানুয়ারি লটারি হবে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগ্রহী ব্যক্তিদের নিবন্ধনের পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লটারির মাধমে ৩৪ হাজার ৫০০ কর্মী নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিতদের মধ্য থেকে প্রথম পর্যায়ে মালয়েশিয়া পাঠানোর জন্য চূড়ান্তভাবে ১১ হাজার ৫০০ কর্মী নির্বাচন করে মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে নির্বাচিত ব্যক্তিদের জানানো হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ব্যক্তিদের ১০ দিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। বিভিন্ন স্থানে হয়রানি : বিএমইটি সূত্র জানায়, সরকারিভাবে এ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য আগ্রহীদের ৪০ হাজারের বেশি টাকা খরচ হবে না। সাধারণত বেসরকরিভাবে মালয়েশিয়া যেতে এর কয়েকগুণ বেশি টাকা খরচ হতো। এদিকে, কম খরচে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ হওয়ায় আগ্রহীরা তথ্য সেবাকেন্দ্রে ভিড় করায় নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। দুই বিভাগের বিভিন্ন ইউনিয়ন তথ্য সেবাকেন্দ্রে হয়রানি হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি সেল খোলা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় হয়রানির শিকার ব্যক্তিরা এই সেলে তাদের অভিযোগ জানানোর পর মনিটরিং বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের হয়রানি বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। এই সেলের একজন পরিদর্শক জানান, গত তিনদিনে হয়রানির শিকার হওয়া প্রায় ৩শ’ ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন। অনেকে নিবন্ধনের জন্য ২০০, ৩০০ বা ৫০০ টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকের টাকা দেয়ার পরও নিবন্ধন হয়নি, অনেককে পাসপোর্ট ছাড়া নিবন্ধন করতে দেয়া হয়নি। বিএমইটি’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক সেলিম রেজা বলেন, নিবন্ধনকৃতদের মধ্য থেকে স্বচ্ছভাবে কর্মী বাছাই করা হবে। এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া নিবন্ধনের ক্ষেত্রে হয়রানির অভিযোগ উঠলেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও থানা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।