খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চার্জশিট আমলে নিয়েছে আদালত

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৫
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে মামলার পলাতক একমাত্র আসামি খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩১ জানুয়ারি দিন ধার্য করে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জহুরুল হক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে খালেদা জিয়া ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির হন। তিনি আদালত কক্ষে প্রবেশের পর তাকে সাক্ষীর কাঠগড়ার পাশে একটি চেয়ারে বসতে দেয়া হয়। এ সময় খালেদা জিয়া দাঁড়িয়ে বিচারকের সম্মানে উঠে দাঁড়ান। বেলা ২টা ১৭ মিনিটে শুনানি শুরু হয়। খালেদা জিয়ার পক্ষে সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি, এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রমুখ শুনানি করেন। ওই সময় আদালত কক্ষে ও বাইরে কয়েকশ’ আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। শুনানিতে আইনজীবীরা বলেন, খালেদা জিয়া এই ট্রাস্টের চেয়ারম্যান। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে এই ট্রাস্ট গঠন করা হলেও এটি একটি ব্যক্তিগত ট্রাস্ট। সরকারি কোন অর্থ এখানে ব্যবহার করা হয়নি যে, দুর্নীতির মামলা দায়ের হতে পারে। বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন থেকে এই ট্রাস্টে অর্থ সরবরাহ করেছে। এছাড়া এ ট্রাস্টের কোন সদস্য এ সংক্রান্তে কোন অভিযোগ করেননি। ট্রাস্টের আর্থিক কোন অনিয়মের বিরুদ্ধে যদি কোন অভিযোগ থাকে সেক্ষেত্রে ট্রাস্টি বোর্ডে মামলা হবে। আইনজীবীরা বলেন, এছাড়া অভিযোগের অনুসন্ধান পর্যায়ে খালেদা জিয়াকে বক্তব্য দেয়ার জন্য নোটিস যথাযথভাবে দেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে হাইকোর্টে একটি রিট বিচারাধীন রয়েছে। তাই ত্রুটিপূর্ণভাবে মামলাটির তদন্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করায় তা বাতিল করে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেয়া হোক। জবাবে দুদকের পক্ষে বিশেষ পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহ করেছেন। ট্রাস্টের নামে ক্রয় করা জমির মূল্য কম দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করেছেন। বেলা সোয়া ৫টায় বিচারক মামলার পুনঃতদন্তের আবেদন না-মঞ্জুর করে অভিযোগপত্র আমলে নেন ও পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। শুনানিকালে আদালতে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস ও সাদেক হোসেন খোকা এবং আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন। খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরা উপলক্ষে আদালতপাড়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সকাল থেকেই মোড়ে মোড়ে পুলিশী পাহারা বসানো হয়। বাড়ানো হয় গোয়েন্দা নজরদারি। সব ধরনের নাশকতা এড়াতে বিভিন্ন প্রবেশপথে তল্লাশি চালানো হয়। অপরদিকে খালেদার আদালতে আগমন উপলক্ষে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী দফায় দফায় মিছিল করেছে। এসব মিছিল থেকে তারা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের সব ধরনের মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। উল্লেখ্য, অভিযোগপত্র আমলে গ্রহণের জন্য ১৪ বার সময় মঞ্জুর করে আদালত। এ মামলার অপর আসামি বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরীর তত্কালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান গতকাল শুনানিকালে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ২০১১ সালের ৮ আগস্ট দুদকের দায়ের করা এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে গত বছর ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদকের পরিচালক হারুনুর রশিদ।