ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, গত সপ্তাহে জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারতের এক সৈন্যের শিরশ্ছেদ করার পর পাকিস্তানের সঙ্গে আর স্বাভাবিক কার্যক্রম চলতে পারে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিহত ল্যান্স নায়েক হেমরাজের শিরশ্ছেদের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার করতে হবে, আশা করি পাকিস্তান বিষয়টি বুঝবে। এদিকে পাকিস্তানের বয়স্ক নাগরিকদের তাত্ক্ষণিক
ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ভারত। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এনডিটিভির।
গত ৮ জানুয়ারি সীমান্তে দুই ভারতীয় সেনা নিহত ও অঙ্গহানির ঘটনা প্রসঙ্গে মনমোহন সিং বলেন, যেটা ঘটেছে সেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর পাকিস্তানের সঙ্গে আর স্বাভাবিক সম্পর্ক চলতে পারে না। গতকাল মঙ্গলবার ভারতের সেনা দিবস উপলক্ষে সংবাদ মাধ্যমে তিনি এ কথা বলেন। গত সোমবার ভারতের সেনা প্রধান বিক্রম সিং যে কোনো উস্কানিমূলক আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেন।
গতকাল সকালে পাকিস্তানের বয়স্ক নাগরিকদের জন্য ওয়াগা সীমান্তে তাত্ক্ষণিক ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া স্থগিত করার ঘোষণা দেয় ভারত। গত সপ্তাহে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার শিনডে বলেছিলেন, সীমান্তে উত্তেজনা এই ভিসা প্রক্রিয়ায় কোন প্রভাব ফেলবে না। এদিকে দুই দেশের এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে খেলাধুলায়ও। পাকিস্তানের নয়জন হকি খেলোয়াড় ভারত থেকে দেশে ফিরে যাচ্ছে। তারা ভারত হকি লীগে অংশ নিচ্ছিলেন। এছাড়া এ মাসেই অনুষ্ঠিতব্য নারী বিশ্বকাপে অংশ নিতে পাকিস্তানের ক্রিকেট দল ভারতে নাও আসতে পারে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর দাবি, ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানি সেনারা ভারতীয় অঞ্চলে অনুপ্রবেশ করে দুই ভারতীয় সৈন্যকে হত্যা করে। তবে পাকিস্তান এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে পাল্টা ১০ জানুয়ারি ভারতীয় সেনাদের গুলিতে এক পাকিস্তানি সেনা নিহত হওয়ার দাবি করে। এর আগে ৬ জানুয়ারি ভারতীয় সেনাদের বিরুদ্ধে এক সৈন্য হত্যার অভিযোগ তুলে পাকিস্তান। দুটি অভিযোগই প্রত্যাখ্যান করে ভারত।
চলমান সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষিতে দুই দেশের সেনা পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয় গত সোমবার। বৈঠকে ২০০৩ সালে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি সম্মান জানাতে পরস্পরকে আহবান জানায় দেশ দুটি। পতাকা বৈঠকের পরও সীমান্তে গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
