যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক ফ্লিট কমান্ডার অ্যাডমিরাল সিসিল ডি হেনি বলেছেন, এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তি ও সামরিক কৌশলে নতুনভাবে ভারসাম্য বিধান করা হচ্ছে। এটা কেবল সামরিক উদ্দেশ্যেই নয়, বাণিজ্য ও অর্থনীতি, তথ্য বিনিময় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য করা হচ্ছে। তারই অংশ হিসাবে বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে। নৌ-বাহিনী ও কোস্টগার্ডকে শক্তিশালী করা হবে।
মার্কিন এই ফ্লিট কমান্ডার বাংলাদেশ সফরকালে গতকাল মঙ্গলবার গুলশানে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে একথা বলেন। এ সময়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা উপস্থিত ছিলেন। এডমিরাল হেনি আরো বলেন, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডকে শক্তিশালী করার অংশ হিসাবে এবছরই ১৬টি অত্যাধুনিক নৌযান দেয়া হবে। এছাড়া ‘কাটার জাহাজ’ নামে আরেকটি বৃহত্ জাহাজ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বাংলাদেশের নৌ ও সমুদ্রসীমা এবং সমুদ্রের সম্পদরাজির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই সহযোগিতার উদ্দেশ্য। এডমিরাল হেনি সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারিক সিদ্দিকী ও নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল জেড ইউ আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
মার্কিন ফ্লিট কমান্ডার সাংবাদিকদের আরো বলেন, মালাক্কা থেকে দক্ষিণ চীন সাগর পর্যন্ত সমুদ্র পথে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ পণ্য চলাচল করে। ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর দিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের এক দশমিক তিন ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য। তাই এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগর এবং ভারত মহাসাগরে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা জরুরি, মালামালের নিশ্চিত পরিবহনের জন্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার তাগিদে ১৯৫২ সাল থেকে এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আছে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারী দেশ বাংলাদেশ রপ্তানির জন্য সমুদ্রের উপর নির্ভরশীল। দেশটির দীর্ঘ সমুদ্রপথ রয়েছে, যা মানব পাচার, চোরাকারবার, মাদক পাচার, অস্ত্র পাচার, পাইরেসির হাত মুক্ত থাকা দরকার। সামনের দিনগুলোতে তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদেরও নিরাপত্তা দিতে হবে। এ জন্যই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা পাওয়ায় কোস্টগার্ড সমুদ্রপথে ডাকাতির ঘটনা ৭০ শতাংশ কমাতে সক্ষম হয়েছে।
