বিষয়টি নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ ছিল না। গত পরশু ছিল ফেসবুকের এক সংবাদ সম্মেলন। তবে অন্যান্য সংবাদ সম্মেলনের বিষয় নিয়ে আগে থেকেই ধারণা দেওয়া হলেও এবারের সম্মেলনটি সম্পর্কে ফেসবুকের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের অনুমান ছিল, এই সম্মেলনে ফেসবুক নতুন কোনো সেবার ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। আর সেই সেবাটি ছিল সার্চ ইঞ্জিন সংক্রান্ত। অন্য একদল প্রযুক্তি বিশ্লেষক আবার ফেসবুক ফোনের আগমনের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত প্রথম গবেষক দলের ধারণাই সত্যি পরিণত হলো। পরশু রাতের সম্মেলনে ফেসবুক অবমুক্ত করেছে তাদের নতুন ‘সোস্যাল সার্চ’ টুল। প্রচলিত যে পদ্ধতিতে এখন আমরা সার্চ ব্যবহার করে থাকি, তার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা প্রদান করতেই ফেসবুক এই সোস্যাল সার্চ সেবাটি চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। ফেসবুকের ব্যবহারকারীরা প্রতিনিয়তই ফেসবুকে নান ধরনের ছবি, ভিডিও শেয়ার করে চলেছেন। এসব কনটেন্ট থেকেই সার্চ করার সুযোগ করে দিচ্ছে ফেসবুক। আর এই সার্চে আমরা নিত্যদিনে যে ভাষা ব্যবহার করে থাকি, তা দিয়েই সার্চ করা যাবে। যেমন, কেউ যদি জানতে চায় তার কোন বন্ধু হ্যারি পটার পছন্দ করে, তার জন্যও সে সার্চ দিতে পারবে ফেসবুকে। নতুন ধরনের এই সার্চ সেবাটি খুব শীঘ্রই জনপ্রিয় হবে বলেই ধারণা প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের। এদিকে সার্চ সেবায় গুগল যে রাজত্ব করে যাচ্ছে, তাতে ভাগ বসানোর জন্যই ফেসবুক এই সেবা চালু করেছে বলেও মন্তব্য তাদের। তবে সরাসরি গুগল’র সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য এই সেবা চালু করা হয়নি বলেই দাবী ফেসবুকের। এ বিষয়ে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান মার্ক জুকারবার্গ এই সেবা অবমুক্তির ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘প্রচলিত সার্চের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন আমাদের নতুন এই সেবা। যার ফলে গুগল’র সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য আমরা এটি চালু করেছি, এই ধারণাটি সত্য নয়। মূল ধারার সার্চে এটি কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেই আমরা মনে করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ওয়েব ইনডেক্সের কাজ করছি না। আমরা কেবল আমাদের গ্রাফের ইনডেক্সিং করছি। তবে ফেসবুক যেহেতু বিশ্বব্যাপী সবাই ব্যবহার করে, তাই এর মাধ্যমেও চাহিদা অনুযায়ী অনেক তথ্য খুঁজে পাওয়া যাবে।’ ফেসবুককে একটি বিশাল তথ্যভাণ্ডার হিসেবে চিন্তা করলে এই ভাণ্ডার থেকে তথ্য খুঁজে পাওয়ার সেবাই এই সোস্যাল সার্চ। ফেসবুকে শেয়ার করা যেকোনো তথ্য এবং লাইক করার তথ্য থেকে কোনোকিছু খুঁজে বের করা যাবে এর মাধ্যমে।
