সেরা পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৩৪
বিশ্বায়নের এই যুগে সব শিক্ষার্থীই এমন কোনো বিষয়ের উপর উচ্চ ডিগ্রি গ্রহণ করতে চায় যার চাহিদা কেবল নিজের দেশেই নয়, দেশের বাইরেও রয়েছে। এমন একটি কোর্স প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং। এই দেশে বিষয়টি অনেকের জন্যে নতুন এবং কঠিন মনে হতে পারে। কিন্তু বিশ্বায়নের এই যুগে এটি নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে চাহিদার কারণেই এ দেশে এর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে কয়েক বছর ধরে এবং আনন্দের বিষয় এদেশে এর সাফল্যের চিত্রও আশাব্যঞ্জক। প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং এমন একটি বিষয় যার চাহিদা এবং কারিকুলাম পুরো বিশ্বজুড়ে একই। চাকরি ছাড়াও এসিসিএ একমাত্র কোর্স যা যেকোনো পর্যায়ে ইংল্যান্ডসহ ১৭৩টি দেশে ১০০% ক্রেডিট ট্রান্সফার করা যায়। আর চাকরি ক্ষেত্রে বেতনও পাওয়া যায় ভালো। বাংলাদেশে এই কোর্সে সর্বাধিক শিক্ষার্থী এবং সাফল্য নিয়ে এসিসিএ কোর্স চালিয়ে যাচ্ছে ধানমন্ডির ১০/এ রোডের ৫১ নম্বর প্লটে অবস্থিত চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজে। তাদের গাইড লাইন, শিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের এসিসিএ বিষয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্কোর পেতে সহায়তা করছে। প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিংয়ের আওতায় রয়েছে এসিসিএ, সিএটি, এফআইএ—এই তিনটি বিষয়। দ্য অ্যাসেসিয়েশন অব চার্টার্ড সার্টিফায়েড অ্যাকাউন্ট্যান্টস (এসিসিএ) এবং সার্টিফায়েড অ্যাকাউন্টিং টেকনিশিয়ান (সিএটি) —দু’টিই প্রফেশনাল কোর্স। সিএটি হচ্ছে অ্যাকাউন্টিং কোয়ালিফিকেশন যেখানে অ্যাকাউন্টিংয়ের বেসিক থেকে শেখানো হয়। এটি করার পর দ্রুত এসিসিএ কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়। অন্যদিকে এফআইএ হচ্ছে এসিসিএ’র এন্ট্রি লেভেলের স্যুট অব কোয়ালিফিকেশন যা থেকে শিক্ষার্থীরা পূর্বের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চমত্কার কোর্স বেছে নিতে পারে। যারা একেবারেই এন্ট্রি লেভেল থেকে শুরু করতে চায়, তাদের এফআইএ’র ইন্ট্রোডাক্টরি সার্টিফিকেট লেভেল থেকে শুরু করতে হবে। যাদের কিছুটা অ্যাকাউন্টিং ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে, তারা এফআইএ’র ইন্টারমিডিয়েট সার্টিফিকেট লেভেল থেকে শুরু করতে পারে। যাদের অ্যাকাউন্টিংয়ের বেসিক শক্তিশালী কিন্তু গ্রাজুয়েশন নেই তারা এফআইএ’র ডিপ্লে¬ামা লেভেল থেকে শুরু করতে পারে। ৮১৪১৬০২, ০১৭২০৫৫৩২৭৪ নম্বরে ফোন করে এসব কোর্স সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যাবে। যেকোনো শিক্ষার্থী ডিপ্লে¬ামা লেভেল শেষ করে সরাসরি এসিসিএ’র স্কিল মডিউলে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে সিএটি সার্টিফিকেট পাবে না। যেসব শিক্ষার্থী সিএটি সার্টিফিকেট নিতে চায় তাদের পুর্বের মতোই ৯ টি বিষয় সম্পন্ন করতে হবে, যার মধ্যে এফআইএ’র ইন্ট্রোডাক্টরি সার্টিফিকেট, ইন্টার মিডিয়েট সার্টিফিকেট, ডিপ্লে¬ামা এবং আরো ২টি বিষয় সম্পৃক্ত আছে। এসিসিএ-তে একসাথে একটি থেকে চারটি বিষয়ের উপর পরীক্ষা দেওয়া যায়। এর পরীক্ষা পদ্ধতি খুবই সহজ। কোনো শিক্ষার্থী চার বিষয়ের মধ্যে এক বিষয় ফেল করলে এক বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। বাংলাদেশে এই কোর্সটি ব্রিটিশ কাউন্সিলে পরীক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাচ্ছে। পরীক্ষা বছরে জুন এবং ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। তবে কম্পিউটার বেসড পরীক্ষা বছরের যেকোনো সময় হতে পারে। কোর্সটি করে বহুজাতিক কোম্পানি বা কর্পোরেট অফিসে চিফ ফিন্যান্স অফিসার, অডিটর; আন্তর্জাতিক অ্যাকাউন্টিং ফার্মে পার্টনার, ফিন্যান্স ডিরেক্টর, সিনিয়র ইন্টারনেল অডিটর প্রভৃতি পদে চাকরি করতে পারে। এই কোর্সে ভর্তির আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা, অবকাঠামো, শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী ক্লাসরুম, কম্পিউটার ল্যাব সুবিধা, ইন্টারনেট, নিজস্ব সফটওয়ার, গ্রুপ স্টাডি করার মতো লাইব্রেরি প্রভৃতি রয়েছে কি না তা যাচাই করে দেখা প্রয়োজন। চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজ এসব বিষয়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে অন্যদের তুলনায়।