খুলনায় স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধের নির্মাণ শেষ হয়নি আজও

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:১৪
খুলনার মুক্তিযোদ্ধা ও নাগরিক সমাজের আন্দোলন-সংগ্রামের ফলে নগরীর গল্লামারী বধ্যভূমিতে স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধের মূল স্তম্ভ নির্মাণ করা হয় স্বাধীনতার ৩৮ বছর পর। তবে এখনো স্মৃতিসৌধ পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। স্মৃতিসৌধ পূর্ণাঙ্গ ও দৃষ্টিনন্দন করতে ৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প ফাইল গত দুই বছর ধরে লাল ফিতায় বন্দী হয়ে আছে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন এ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধারা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এ অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক বীর মুক্তিযোদ্ধার সমাধিস্থলে পরিণত হয় নগরীর উপকণ্ঠ গল্লামারী বধ্যভূমি। পাক সেনারা মুক্তিকামী সাধারণ মানুষসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাকে এখানে ধরে এনে নির্বিচারে হত্যা করে। শুধু তাই নয়, যুদ্ধকালীন সময় গল্লামারীতে পাক সেনাদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের বড় ধরনের সম্মুখযুদ্ধও সংঘটিত হয়েছিল। যে কারণে স্বাধীনতার পর থেকে এ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষ শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে যান গল্লামারী বধ্যভূমিতে। গল্লামারী বধ্যভূমি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি অংশ। এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধ প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিনের। যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৬ সালে এ অঞ্চলের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নাগরিক সমাজের এক যৌথ সভায় পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা স্মৃতি কমপ্লেক্স বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়। সেই থেকে গল্লামারী বধ্যভূমিতে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা স্মৃতি কমপ্লেক্সের দাবি তুলে ধরা হয় রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ে। সূত্রমতে, পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা স্মৃতি কমপ্লেক্স বাস্তবায়ন কমিটির আন্দোলন-সংগ্রামের ফলে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আনোয়ারুল ইকবাল গল্লামারীতে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা স্মৃতি কমপ্লেক্স করার প্রতিশ্রুতি দেন। সেই আলোকে খুলনা জেলা পরিষদের উদ্যোগে গল্লামারী বধ্যভূমিতে একটি দৃষ্টিনন্দন ‘স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধ’ নির্মাণের জন্য ৮ কোটি ১৬ লাখ টাকার প্রকল্প দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া যায় মাত্র ২ কোটি টাকা। বরাদ্দকৃত টাকা ও জেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিলের ১৬ লাখসহ মোট ২ কোটি ১৬ লাখ টাকায় গত ২০০৯ সালের ২০ নভেম্বর অপূর্ণাঙ্গভাবে নির্মিত হয় স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধের মূল স্তম্ভ। এরপর দীর্ঘ ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও স্মৃতিসৌধের পূর্ণাঙ্গ রূপ আজও দেয়া সম্ভব হয়নি। সূত্র জানায়, পূর্ণাঙ্গ ও দৃষ্টিনন্দন আকারে স্বাধীনতা সৌধ নির্মাণের জন্য ২০১১ সালের ২৯ মার্চ খুলনা জেলা পরিষদ ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে একটি প্রকল্প পাঠায়। এই প্রকল্পে স্মৃতিসৌধ স্থলে গার্ডেন সিটি, পানির ফোয়ারা, আলোকসজ্জা, নিরাপত্তা প্রহরী কক্ষ, ওয়েটিং কক্ষ, সীমানা প্রাচীর রেস্টুরেন্ট, ফুলের বাগান, বিকল্প সড়ক নির্মাণ ও চারপাশের জমিতে বৃক্ষরোপণের ব্যবস্থা রাখা হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবু আলম মোঃ শহীদ খান গত বছর ১৯ ফেব্রুয়ারি গল্লামারী স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধ পরিদর্শনশেষে স্মৃতিসৌধের অবশিষ্ট কাজ অচিরেই শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশ্বস্ত করেন। তবে অজ্ঞাত কারণে পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পটি মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেই থেকে ফাইলটি মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে। এ ব্যাপারে খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ হারুনুর রশিদ বলেন, মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর সাথে তার কথা হয়েছে। অচিরেই কাজ শুরু হবে মর্মে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। আগামী ২৪ জানুয়ারি খুলনা সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে খুলনাবাসীর পাশাপাশি এ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধারা আশায় বুক বেঁধেছেন। তাদের প্রত্যাশা, স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধ পূর্ণাঙ্গকরণ, স্মৃতিসৌধের সম্মুখ সড়ক গল্লামারী থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত অংশ ‘শহীদ সরণী’ হিসাবে ঘোষণা এবং স্মৃতিসৌধের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে হস্তান্তর করার ঘোষণা দেবেন প্রধানমন্ত্রী এবং এসব বাস্তবায়নে যথাযথ পদক্ষেপও গ্রহণ করা হবে।