মালয়েশিয়ায় চাকরি

বরিশালে তথ্য কেন্দ্রে বেকারদের ভিড়

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:১৫
বরিশালে মালয়েশিয়া গমনেচ্ছুদের অনলাইনে নিবন্ধন করতে গিয়ে কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে প্রতিটি তথ্য সেবা কেন্দ্রে বেকার যুবকদের দীর্ঘ লাইন দিতে দেখা গেছে। জেলার ৮৫টি তথ্য কেন্দ্রের মধ্যে ৭৭টিতে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ৬ হাজার ৫৫৫ জন নিবন্ধন করছে। নিবন্ধন করতে গিয়েই সরকার নির্ধারিত ফি-এর তিন গুণ টাকা গুনতে হয়েছে বলে প্রার্থীরা অভিযোগ করেন। নিবন্ধন ফি বাবদ সরকার নির্ধারিত ৫০ টাকা করে ইউনিয়ন পরিষদের জমা দিয়ে তথ্য কেন্দ্র থেকে রশিদ নেয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা তিন গুণ পর্যন্ত রেজিষ্ট্রেশন ফি রেখেছেন বলে প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন। একই অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেও। মঙ্গলবার নিবন্ধনের শেষ দিনে বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে নিবন্ধনের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছে গ্রামের দরিদ্র পরিবারের বেকার যুবকরা। ইউনিয়ন পরিষদের ভবন ছাড়াও চেয়ারম্যান-মেম্বরদের বাসাবাড়িতে চলছে এই নিবন্ধন। নিবন্ধনের জন্যই ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্রকে ঘিরে দালাল যুক্ত হয়েছে । বেকার অশিক্ষিত যুবকদের ফরম পূরণ করে তথ্যকেন্দ্রে ঢুকে তা কম্পিউটারে ই-মেল করা বাবদ অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন তারা । সদর উপজেলার চরমোনাইসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুত্ বিভ্রাট ও ইন্টারনেট লাইনে ত্রুটির কারণে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় শ্লথগতির পাশাপাশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে বলে তথ্য কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান। বরিশাল জেলায় এ কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি টিম এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। জেলা প্রশাসক ও ইউএনওরা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের তথ্য কেন্দ্র পরিদর্শন করছেন। জেলা প্রশাসক শহিদুল আলম জানান,জেলার ৮৫টি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের জন্য ৭৭টি ইউনিয়নে তথ্য কেন্দ্র খোলা হয়েছে। যেসব ইউনিয়নে তথ্যকেন্দ্রের সুবিধা নেই তা পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের সাথে সমন্বয় করে দেয়া হয়েছে। চালু করা তথ্য কেন্দ্রের মধ্যে ২৯টি কেন্দ্রে বিদ্যুত্ না থাকায় সোলার প্যানেলের ব্যবস্থা করা হয়। ১৬ জানুয়ারী স্ব-স্ব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লটারীর মাধ্যমে এ বিভাগের সুযোগপ্রাপ্তদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে।