শ্যামনগরে ধ্বংসের মুখে মৃিশল্প

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৪১
মাটির তৈরি বাসন-কোসন এখন খুব একটা চলে না। বংশ পরম্পরায় বাপ-দাদার ব্যবসা বাঁচিয়ে রাখাই দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে পালদের। ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা তো দূরের কথা, দু’বেলা নুন-ভাত জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেকেই বাপ-দাদার ব্যবসা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছে। কথাগুলো বললেন উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নের পাল পাড়ার প্রবীণ ব্যবসায়ী কানু পাল। জানা যায়, একসময় মাটির তৈরি কলস, হাঁড়ি, মালসা, ঢাকনা, নানদা ভালোই চলত। কিন্তু প্লাস্টিক সামগ্রী ও মেলামাইন বাজারে আসায় এগুলোর কদর কমে গেছে। গৃহিনী মমতাজ বেগম বলেন প্লাস্টিক ও মেলামাইন সামগ্রী বাজারে আসার পর মাটির বাসনপত্র এখন আর ব্যবহার করি না। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মাটির বাসন কেউ কেনে না। এ ব্যবসায় এখন আর পেট চলে না। আগে বাসন-কোসন তৈরিতে মাটি কেনার প্রয়োজন হত না। এখন একভ্যান মাটি ৩/৪ শ’ টাকায় কিনতে হয়। মাটির তৈরি উত্পাদিত পণ্য বিক্রি না হওয়ায় আস্তে আস্তে সবাই বিমুখ হয়ে পড়ছে। দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে শ্যামনগরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নুরনগরের মৃিশল্প। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আলমগীর বলেন,সরকারের প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে গ্রাম-বাংলার এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। ফলে এ অঞ্চলে মৃিশল্পের উপর নির্ভরশীল কয়েকশ’ পরিবারের উপরে নেমে আসবে অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা। প্রভাব পড়বে গ্রামীণ অর্থনীতিতে।