ঝিনাইদহে টি আর-কাবিখার চাল গম নিয়ে হরিলুট

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৪৪
ঝিনাইদহ জেলায় টিআর ও কাবিখার চাল নিয়ে হরিলুট কারবার চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুদাম থেকে উত্তোলিত চালের সামান্য অংশ এলাকায় যায়। বাকি অংশ উপজেলা সদরে গড়ে উঠা সিন্ডিকেটগুলোর কাছে ডিও বিক্রি হয়ে যায়। বর্তমানে প্রতি টন চালের ডিও বিক্রি হচ্ছে ১৮ হাজার টাকাতে। অর্থাত্ প্রতি কেজি ১৮ টাকা। জেলা ত্রাণ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থ বছরের (২০১২-২০১৩) প্রথম ৬ মাসে জেলার ৬টি উপজেলায় টি আর-এর অধীন ৪শ’ ১৮টি প্রকল্পের বিপরীতে ৮শ’ ৪৫ দশমিক ২৪ টন এবং কাবিখার অধীন ৯৩টি প্রকল্পের বিপরীতে ৯শ’ ১৯ দশমিক ৮৭ টন চাল বরাদ্দ করা হয়। এছাড়াও জেলার ৪ জন সংসদ সদস্যের টি আর-এর বিশেষ বরাদ্দ কর্মসূচির ৫শ’ ১৬টি প্রকল্পের বিপরীতে ১২শ’ টন চাল বরাদ্দ করা হয়। এ প্রকল্পের অধীন মহিলা সংসদ সদস্যের বিশেষ বরাদ্দের ৯০ টন চাল ৭৮টি প্রকল্পে বরাদ্দ করা হয়। এসব চালের সিংহভাগই এলাকায় নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়নি। তার আগেই লোপাট হয়ে গেছে। এমনও শোনা যায়, অনেক প্রকল্প কাগজ-কলমে থাকলেও বাস্তবে তার কোন অস্তিত্ব নেই। লোকজন সব জেনে-শুনেও বাড়তি ঝামেলার আশংকায় নিরব। কারণ মুখ খুললে বিপদে পড়তে হতে পারে। জেলা ত্রাণ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ৪ জন সংসদ সদস্যের নামে কাবিখা কর্মসূচির আরো ১২শ’ টন চালের বরাদ্দ এসেছে। সব প্রকল্প অফিসে জমা পড়েনি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি উপজেলাতে টি আর ও কাবিখার চাল, গম কেনার জন্য প্রভাবশালী সিন্ডিকেট আছে। প্রতি সরকারের আমলে ডিও কেনাবেচার ব্যবসা করে থাকে। এদের অনেকে ডিও কেনাবেচার ব্যবসা করে কোটিপতি হয়ে গেছেন। এদের মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, চাল গমের বরাদ্দ এলে এক শ্রেণীর চেয়ারম্যান আগাম টাকা নিয়ে থাকেন। তারাও আগাম ২-৩ লাখ টাকা ‘দাদন’ দিয়ে বুকড করে ফেলেন। অভিযোগ শোনা যায়, টি আর এবং কাবিখার চাল গম যেদিক দিয়ে যায়, তার বখরা সব পাতে পড়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, সব জেনেও তাদের কিছু করার নেই।