গোদাগাড়ীতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৪৭
রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাট পৌরসভার ঝুঁকিপূর্ণ সুন্দরপুর আদিবাসী গণপাঠশালা ভবনে পাঠদান অব্যাহত রয়েছে। এলাকার পিছিয়ে পড়া আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নেয়ার জন্যই সুন্দরপুর যুক্তিপাড়ায় বেসরকারিভাবে ২০০২ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পাঠশালাটি প্রতিষ্ঠার প্রায় ১০ বছর পরও সরকারিভাবে এর কোনো উন্নয়ন হয়নি। পাঠশালাটির নিয়মিত পাঠদান চলছে বারান্দায় বারান্দায়। জানা গেছে, বেসরকারি সংস্থা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও স্থানীয় আদিবাসীদের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত এই পাঠশালাতে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের ব্যবস্থা রয়েছে। পাঠশালাটিতে পাকা প্রাচীরের ওপর টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি ৫টি শ্রেণি কক্ষ থাকলেও শিক্ষার্থীদের বসার জন্য বেঞ্চ না থাকায় মেঝেতে বসেই লেখাপড়া করতে হয়। টিনের ছাউনি নষ্টের কারণে বর্ষায় পাঠকক্ষে বৃষ্টি পড়ে। শ্রেণিকক্ষের বাউন্ডারিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনো মুহূর্তেই প্রাচীর ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরপরেও ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে বসেই পড়াশোনার যাত্রা অব্যাহত রেখেছে আদিবাসী শিশুরা। সুন্দরপুর গণপাঠশালায় বর্তমানে ২০৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৫জন মুসলিম শিক্ষার্থী রয়েছে। ২০১২ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ২১জন অংশগ্রহণ করে শতভাগ উত্তীর্ণ হয়।এ পাঠশালার সাবেক শিক্ষার্থী শ্যামসান টুডু বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে পড়াশোনা করছে। এছাড়া আরও ৩০ জন সাবেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন কলেজে অধ্যয়নরত। ধীরে-ধীরে এই পাঠশালাটির শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধি পেলেও উপকরণ সংকটের কারণে শিশুদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। গণপাঠশালার প্রধান শিক্ষক লুচিয়ারা সরেন জানান, শিক্ষার্থীদের সাঁওতালি ও উরাও ভাষায় পাঠদানের পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম অনুযায়ী পাঠদান করা হয়।