বাগেরহাটের সরকারী পি.সি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহ আলম ফারাজীর উপর সন্ত্রাসী হামলার ছয়দিন পরেও পুলিশ হামলাকারীদের সনাক্ত, গ্রেপ্তার বা হামলার কারণ উদঘাটন করতে পারেনি। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে লাগাতার ক্লাস বর্জন কর্মসূচির কারণে কলেজের প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থীর লেখাপড়া বিঘ্নিত হচ্ছে। এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা দু’তিনজনের বিরুদ্ধে কলেজের উপাধ্যক্ষ যে মামলা করেছিলেন তা শনিবার বাগেরহাট সদর মডেল থানা পুলিশের কাছ থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুকণ্ঠ কুমার মন্ডল বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই হামলার জন্য কলেজ ছাত্র সংসদের নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি ও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ইয়াছির আরাফাতকে দায়ী করেছেন। তবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ আনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাগেরহাট জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সরদার নাছিরউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মীর জয়েসী আশরাফী জেমস ও সরকারী পি.সি কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি মো. ইয়াছির আরাফাত নোমান। অধ্যক্ষের ঐ বক্তব্যের প্রতিবাদে সরকারী পি.সি কলেজ শাখা ছাত্রলীগ রবিবার কলেজে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
শনিবার বাগেরহাট প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুকণ্ঠ কুমার মন্ডল বলেন, স্থানীয় এমপির সাথে শিক্ষকদের এক মত বিনিময় অনুষ্ঠানে শিক্ষক শাহ আলম ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি মো. ইয়াছির আরাফাতের বিভিন্ন অন্যায়, ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও দুর্ব্যবহার নিয়ে কথা বলেছিলেন। তারই জের ধরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে সাংবাদিকরা মো. ইয়াছির আরাফাত কোন শিক্ষকের সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন জানতে চাইলে অধ্যক্ষ সুনির্দিষ্টভাবে কোন শিক্ষকের নাম বলেননি। সংবাদ সম্মেলনে সরকারী পি.সি কলেজের অধিকাংশ শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সরদার নাছিরউদ্দিন বলেন, নবনির্বাচিত ছাত্র সংসদ অধ্যক্ষের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে কথা বলায় অধ্যক্ষ তাদের উপর ক্ষুব্ধ হন। তিনি ছাত্র সংসদ বাতিলেরও হুমকি দেন। শিক্ষক শাহ আলমের উপর হামলার ঘটনাটি তিনি তার ইচ্ছা পূরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাচ্ছেন। ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি মো. ইয়াছির আরাফাত নোমান বলেন, অধ্যক্ষের এই অভিযোগ মিথ্যা। ঘটনার পর আমি শিক্ষকদের পাশে থেকে আহত শাহ আলম স্যারকে খুলনায় পাঠিয়েছি। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, পি.সি কলেজের শিক্ষক মো. শাহ আলম ফারাজীর উপর হামলার ঘটনাটি আমরা তদন্ত করছিলাম। ৭ জানুয়ারি ঘটনার রাতে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে আমরা হামলাকারীদের বিষয়ে ঐ শিক্ষকের কাছে জানতে চেয়েছিলাম। তবে তিনি কোন হামলাকারীর নাম জানাতে পারেননি।
