গাইবান্ধার সাত উপজেলায় বাইশটি গভীর নলকূপ দীর্ঘ বত্রিশ বছর ধরে অকেজো। ফলে বোরো রোপণ মৌসুমে এসব নলকূপ চালু হবে কিনা সেটিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
গাইবান্ধা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অফিস সূত্র জানায়, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর তত্ত্বাবধানে ১৯৭৫ সালের দিকে জেলার সাত উপজেলায় ২৬০টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। এরমধ্যে ২৩৮টি নলকূপ চালু রয়েছে। অবশিষ্ট বাইশটি নলকূপ নানা কারণে ১৯৮০ সাল থেকে বন্ধ। এর মধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় দুইটি, গোবিন্দগঞ্জে একটি, সাদুল্লাপুরে পাঁচটি, পলাশবাড়িতে পাঁচটি, ফুলছড়িতে চারটি ও সুন্দরগঞ্জে পাঁচটি।
আগে এসব নলকূপ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো। ২০০৫ সাল থেকে বরেন্দ্র বহুমুখী কর্তৃপক্ষের আওতায় পরিচালতি হচ্ছে। প্রতিটি গভীর নলকূপ থেকে প্রায় ৬৭ একর জমিতে পানি সেচ দেয়া সম্ভব। আগে একর প্রতি এক হাজার ৮০০ টাকা খরচ হলেও এখন কৃষককে দিতে হচ্ছে তিন হাজার ৬০০ টাকা।
সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর গ্রামের কৃষক রজব আলী (৫০) বলেন, আমাদের গ্রামে গভীর নলকূপটি চালু থাকাতে যে পরিমাণ জমিতে পানি সরবরাহ করা যেত সে জায়গায় এখন তিনটি শ্যালো মেশিনে সেচ দিয়েও প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না। নলকূপটি চালু করার জন্য বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে তাগাদা দিয়েও সচল করা সম্ভব হয়নি।
গাইবান্ধা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূর ইসলাম অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বন্ধ থাকা বাইশটি নলকূপের মধ্যে দশটি চালু করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিদ্যুত্ সংযোগের জন্য গাইবান্ধা পল্লী বিদ্যুত্ সমিতিতে আবেদন করা হয়েছে। সংযোগ পাওয়া গেলে আসন্ন বোরো মৌসুমে এগুলো চালু করা সম্ভব হবে।
