রোহিঙ্গাদের বাদ দিতে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের নির্দেশ ইসির

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:০৪
ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের সময় কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি জেলায় রোহিঙ্গারা অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তাদেরকে তালিকা থেকে বাদ দিতে দ্বিতীয় দফা যাচাই করতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে কমিশন সভা শেষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। সিইসি বলেন, কক্সবাজারসহ পার্বত্য ২ জেলার সীমান্তবর্তী চিহ্নিত এলাকাগুলোয় কোনোভাবেই রোহিঙ্গারা যাতে ভোটার হতে না পারে তা যাচাইয়ের জন্য বিশেষ কমিটিকে বলা হয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষ কমিটি ভোটারদের বিশেষ ফরম পুনরায় দেখবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের অভিযোগের ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে। তিনি বলেন, সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের কাজ অনেকটা অগ্রসর হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তা চূড়ান্ত করা হবে। এছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশও চূড়ান্ত বলে জানান তিনি। গত ২ জানুয়ারি দেশজুড়ে হালনাগাদ খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ঐ তালিকায় রোহিঙ্গারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে ইসিকে একপত্রের মাধ্যমে জানিয়েছেন বিশেষ সংস্থা। ঐ পত্রের ভিত্তিতে ইসির উপ-সচিব মু. আবদুল ওদুদ স্বাক্ষরিত পত্র কক্সবাজার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। গোয়েন্দা সংস্থার ঐ পত্রের ভিত্তিতে ইসি সংশ্লিষ্ট এলাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে একটি পত্র প্রেরণ করে। ঐ পত্রে জানানো হয়, হালনাগাদের সময় অনেক বাংলাদেশি নাগরিক ভোটার হতে পারেনি। তবে রোহিঙ্গারা অবৈধ যোগসাজশে ফরম সংকট সৃষ্টি করে। ছবি তোলার সময় কিছু আবেদনকারীর প্রকৃত বয়সের তুলনায় ব্যাপক গড়মিল পাওয়া গেছে বলেও উল্লেখ করা হয় ঐ পত্রে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী জেলায় রোহিঙ্গারা ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি-না সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের তা যাচাই বাচাইয়ের পুনর্নির্দেশ দিয়েছে ইসি। শুক্রবার ভোটার তালিকার খসড়ার উপর দাবি-আপত্তি-সংশোধনের সময় শেষ হচ্ছে। ১০ জানুয়ারি ইসি সচিবালয়ের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হালনাগাদ তালিকার বিষয়ে বিশেষ এলাকার বিশেষ কমিটির পদক্ষেপগুলো বিবেচনায় নিয়ে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে সমন্বিত তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে পাঠাতে হবে। চিহ্নিত জায়গাগুলো হলো কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, টেকনাফ, রামু, পেকুয়া, উখিয়া, মহেষখালী। বান্দরবন সদর, আলি কদম, লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি ও রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি এবং কাপ্তাই। কক্সবাজার, বান্দরবান ও রাঙামাটি জেলার ১৩ উপজেলায় এবারের হালনাগাদে প্রায় ১৭ হাজার আবেদন নাকচ হয়। এর আগে ২০১০ সালের হালানাগাদে ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী অধ্যুষিত’ এ অঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজার আবেদন বাতিল করে ইসি।