টিপাইমুখ জলবিদ্যুত্ প্রকল্প

যৌথ সমীক্ষার কর্মপদ্ধতি চূড়ান্ত করতে ফেব্রুয়ারিতে দুই বিশেষজ্ঞ দলের বৈঠক

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:০৬
বরাক নদীর ওপর টিপাইমুখ জলবিদ্যুত্ প্রকল্পে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ সমীক্ষার কর্মপদ্ধতি চূড়ান্ত করতে ফেব্রুয়ারির শুরুতেই বৈঠকে বসতে যাচ্ছে দুদেশের বিশেষজ্ঞ দল। বৈঠকে বাংলাদেশ পক্ষের সমীক্ষার কর্মপদ্ধতি চূড়ান্ত করা হবে। বাংলাদেশের সমীক্ষা দলের প্রয়োজনে কিছু বিষয়ে ভারতের কাছে তথ্য চাইবে। এছাড়া গত আগস্ট মাসে এই কমিটির প্রথম বৈঠকের পর দুদেশ যে কাজ করেছে তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। বৈঠক আগামী ১-২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে বাংলাদেশ সমীক্ষা দলের প্রধান যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মীর সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নিবে। আর ভারতীয় পক্ষের যৌথ সমীক্ষা দলের চেয়ারম্যান এন.কে.মাথুরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল অংশ নিবে। যৌথ সমীক্ষা দলের বাংলাদেশ পক্ষের প্রধান এবং যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মীর সাজ্জাদ হোসেন দৈনিক ইত্তেফাককে জানান, যৌথ সমীক্ষা দলের এই বৈঠকে আমদের (বাংলাদেশ পক্ষ) সমীক্ষা কিভাবে করা হবে তার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। যেহেতু এটি যৌথ সমীক্ষা তাই দুদেশই তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ আলোচনা সাপেক্ষে অগ্রসর হতে চায়। এর ফলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ক্ষেত্রেও কোন ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হবে না। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, যৌথ সমীক্ষার চূড়ান্ত কার্যপরিধি অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রায় ১৪টিরও বেশি বিষয়ের উপর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। প্রকল্প শুরুর আগে এবং পরে বরাক-সুরমা-কুশিয়ারা নদীর প্রবাহ এবং এর আশেপাশের সম্ভাব্য সার্বিক অবস্থা কি হবে তা নিয়ে কাজ করবে এই দল। এছাড়া জীববৈচিত্র্য, নদীর গতিপ্রবাহ, ভূমি, পরিবেশের ভারসাম্য, ভূমিকম্প, কৃষি, মত্স্য, পানির সার্বিক অবস্থা, মানুষের জীবন-যাপন, জনসংখ্যাতত্ত্বসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক সম্ভাব্য প্রভাব নিরূপণ করা হবে। কার্যপরিধি অনুযায়ী, টিপাইমুখ প্রকল্পে অতিরিক্ত পানি মজুদ করে রাখার ফলে ভূমিকম্প হওয়ার কোনো আশংকা আছে কিনা তা নিয়ে কাজ করবে দুদেশের বিশেষজ্ঞ দল।