সিলেটে কাজীরবাজার সুরমা সেতু শেষ হলো না সাত বছরেও

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২১
দীর্ঘ সাত বছরেও সিলেট শহরের কাজীরবাজার সুরমা সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এ নিয়ে সংশয় রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহ মু. মুসা গতকাল বুধবার ইত্তেফাককে বলেন, সেতুর কাজ পুরোদমে চলছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা চলছে। গত বছর ১ মার্চ যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সেতু নির্মাণ কাজ দেখে কাজ থেমে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বর্তমান সরকারের মেয়াদেই কাজ সম্পন্ন করার ঘোষণা দেন। ২৪ মার্চ আলীয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান সরকারের মেয়াদেই সেতুর কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু ‘অর্থ বরাদ্দে ধীরগতির কারণে’ প্রকল্পটির অগ্রগতি নেই। নগরীর কাজীরবাজারে সুরমা নদীতে দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০৫ সালে এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০০৯ সালে। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থ সংকটসহ নানা কারণে প্রকল্পটি সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে এগোতে পারেনি। প্রকল্পটি শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় ৪ বছর অতিবাহিত হয়েছে। এখনো নির্মাণ কাজে শম্বুক গতি। সেতুর ৭০ ভাগ শেষ হয়েছে। বাকি ৩০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করতে আরো ৪০ কোটি টাকা প্রয়োজন। বরাদ্দ হয়েছে ২০ কোটি টাকা। মূল সেতুর ৩০ ভাগ কাজ এখনো বাকি। উত্তরপ্রান্তের এপ্রোচ নির্মাণে সম্প্রতি দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সিলেটের ঐতিহ্যের নিদর্শন কীন ব্রিজের স্থলে একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন প্রয়াত স্পিকার হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী। ৫৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়েছিল। চারদলীয় জোট সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ঐতিহ্যের স্মারক কীন ব্রিজের ঐতিহ্য রক্ষায় এর সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্যোগ নেন। পাশাপাশি কীন ব্রিজের অদূরে কাজীরবাজার এলাকায় সুরমা নদীতে দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ৩৬৬ মিটার দীর্ঘ, ৪ লেন বিশিষ্ট সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৯৮ কোটি টাকা। ২০০৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর তত্কালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ও যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর কাজ শুরু হয়। ২০০৯ সালের শেষদিকে সেতুর কাজ বন্ধ করে দেয় বর্তমান সরকার। সংশ্লিষ্টরা জানান, ওই সময়ে কাজ বন্ধ রেখে প্রকল্পটি সংশোধন করে এর ব্যয় ৯৮ কোটি টাকা থেকে একশ ৬২ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। প্রায় ২ বছর পর ২০১১ সালের শেষদিকে সংশোধিত প্রকল্পটি অনুমোদন করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। সওজ’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী একিউএম একরাম উল্লাহ বলেন, সরকারের বাকি মেয়াদে সেতুর কাজ শেষ করতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।