বামদের হরতালে মরিচের গুঁড়া রঙিন পানি, পুলিশের লাঠিপেটা

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৪
বড় ধরনের কোনো অঘটন ছাড়াই পালিত হয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার ডাকা আধাবেলা হরতাল কর্মসূচি। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গতকাল বুধবার সারাদেশে সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ডাকা এই হরতালে ঢাকায় বিভিন্ন স্থানে হরতালের সমর্থনে বের করা মিছিল-সমাবেশে পিপার স্প্রে (মরিচের গুঁড়া) ও জলকামান ব্যবহারের পাশাপাশি লাঠিপেটাও করেছে পুলিশ। এতে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বাম মোর্চার কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল হক ও মোশরেফা মিশু এবং ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম শুভসহ ৫০ জনের বেশি আহত হন। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এই হরতালে নৈতিক সমর্থন দিয়েছে। অবশ্য তাদের এই সমর্থনকে ‘রাজনৈতিক দুরভিসন্ধিমূলক’ বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বামপন্থি নেতারা। এর আগে গত ৬ জানুয়ারি একই দাবিতে দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। গতকালের হরতালে নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে বাম সংগঠনগুলো। ঢাকায় বিকাল চারটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। ৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশশেষে জাতীয় সংসদ অভিমুখে মিছিল ও স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হবে। এছাড়া নারী নির্যাতন বন্ধ, যুদ্ধাপরাধীদের দ্রুত বিচার ও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি বন্ধসহ ১৫ দফা দাবিতে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি সিপিবি ও বাসদ ঢাকায় জাতীয় মহাসমাবেশ করবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ২৮ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে বিভিন্ন কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগঠনের সমন্বয়ে স্মারকলিপি পেশ করা হবে। গতকাল হরতাল শেষে রাজধানীর পুরানা পল্টনে মুক্তি ভবনে সিপিবি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি হরতালশেষে সাংবাদিক সম্মেলনে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ ছাড়া এ বর্বরোচিত হামলা হয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি না। জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে এই হামলার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় ক্ষতিকর পিপার স্প্রে ব্যবহারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে আমেরিকা এ ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করেছিল। আর এখন তা এদেশে আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের মালিক ও আইএমএফের স্বার্থ রক্ষার জন্যই সরকার এ ধরনের হামলা চালিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়তো বলবেন, বাংলাদেশ এনালগ থেকে ডিজিটাল হচ্ছে, তাই আইন রক্ষার কাজে নতুন অস্ত্র দিয়ে জনগণকে নাজেহাল করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি এই নির্দেশ না দিয়ে থাকেন, তাহলে যিনি এই নির্দেশ দিয়েছেন তাকে চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, পিপার স্প্রে অবৈধ কেমিক্যাল। পশ্চিমা দেশগুলোতে এই মরিচের গুঁড়ার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেখানে আগে যখন এটি ব্যবহার করা হতো তখন পুলিশ এক ধরনের মাস্ক ব্যবহার করতো। কিন্তু আমাদের পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা তা ব্যবহারের সময় মাস্ক ব্যবহার করছেন না। ফলে এতে দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটি মানবদেহে স্থায়ী রোগসহ বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে, যা ধীরে ধীরে সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, বিদেশে পাগলা কুকুর ও হিংস্র জন্তু সামলাতে এই পিপার স্প্রে ব্যবহার করা হয়। আর আমাদের দেশে যারা জনস্বার্থে হরতাল করছে, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ এটা ব্যবহার করছে। নৈতিক ভিত্তি নেই, হরতাল হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বাম জোটের এই হরতাল প্রসঙ্গে বলেছেন, বাম দলের হরতালের নৈতিক কোনো ভিত্তি নেই। হরতালের তেমন কোনো ব্যাপকতাও ছিল না। এ হরতাল ব্যর্থ হয়েছে, কোনো হরতাল হয়নি। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। আমরা বাড়াইনি। এ জন্য হরতাল দেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এমনটা আগেও হতো, এখনো হচ্ছে। এর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে না। পুলিশের বাধা ও মরিচের গুঁড়া স্প্রে এই হরতালের সমর্থনে সকালে পল্টনে মুক্তি ভবনের সামনে মিছিল বের হলে তা ছত্রভঙ্গ করতে মরিচের গুঁড়া ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। তখন বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বাম মোর্চার কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল হক ও মোশরেফা মিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্টনে সিপিবি কার্যালয়ের সামনে হরতালের সমর্থনে সমাবেশেও পিপার স্প্রে ও জলকামান ব্যবহারের পাশাপাশি লাঠিপেটা করে পুলিশ। এতে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম শুভসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। পুলিশের পিপার স্প্রের শিকার খালেকুজ্জামান হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়ে তোপখানা সড়কে দলীয় কার্যালয়ে ফিরে পুলিশের দমন-পীড়নের সমালোচনা করে সাংবাদিকদের বলেন, যেখানে এই হরতালে কোনো পিকেটিং অর্থাত্ ভাংচুর বা জ্বালাও-পোড়াও হয়নি সেখানে পুলিশের এ ধরনের হামলা সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণকেই প্রমাণ করে, সরকারকে এর জবাব দিতে হবে। মিছিল-সমাবেশে এক পুলিশ সদস্যের আকস্মিক পিপার স্প্রে প্রসঙ্গে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই পুলিশ সদস্যের বিচার করা না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব। তার এই বক্তব্যের পরপরই জলকামান থেকে সমাবেশে রঙ্গিন পানি ছোড়ে পুলিশ। সঙ্গে চলতে থাকে পিপার স্প্রেও। পরবর্তীতে হরতাল সমর্থকরা আবার একত্রিত হয়ে মিছিল শুরুর চেষ্টা চালালে পুলিশ ফের তাদের ওপর জলকামান থেকে পানি ছোড়ে। ভোর ৬টায় হরতাল শুরুর পরপরই পুরানা পল্টন এলাকায় খ্ল-খ্ল মিছিল শুরু করে বাম দলগুলো। গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, সিপিবি ও বাসদের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা আলাদা মিছিল নিয়ে পুরানা পল্টন মোড় থেকে জিপিও হয়ে প্রেসক্লাব এলাকা প্রদক্ষিণ করে। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মতিঝিল থেকে বাম মোর্চার একটি মিছিল পুরানা পল্টন মোড়ে এলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাক বিতণ্ডা শুরু হলে পুলিশ ‘পিপার স্প্রে’ ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। হরতালকারীদের মিছিল পুলিশের বাধার মুখে পড়ে শাহবাগ এলাকাতেও। নেতা-কর্মীরা সকালে হরতালের সমর্থনে দলীয় পতাকা নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। তবে গাবতলী, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, আসাদগেট, ফার্মগেট, আগারগাঁও, তালতলা, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মিরপুর-১২ নম্বর সেক্টরে হরতাল সমর্থকদের দেখা যায়নি। পল্টন ছাড়াও শাহবাগ ও লালবাগসহ সারাদেশে হরতাল সমর্থকদের ওপর পুলিশ চড়াও হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের পায়ের তলায় মাটি নাই। তাই পুলিশ দিয়ে দমন-পীড়ন করছে। মরিচের গুঁড়া স্প্রে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা চোখ ও শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। পৃথিবীর অনেক দেশে এটা এখন নিষিদ্ধ। সেই নিষিদ্ধ জিনিস এখন হরতাল সমর্থকদের ওপর ব্যবহার করা হচ্ছে। যানবাহন ছিল কম, দূরপাল্লার বাস ছাড়েনি হরতালের শুরু থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ-র্যাব দেখা গেছে। প্রচুর রিকশা চললেও সকালে বাস চলাচল করেছে অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক কম। তবে হরতালের মধ্যেও অভ্যন্তরীণ রুটে কিছু বাস চলতে দেখা গেছে। গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ থেকে সকালে দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। তবে ট্রেন চলেছে স্বাভাবিকভাবেই। সকাল থেকে শাহবাগ, কাকরাইল, সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও এলিফ্যান্ট রোডে যান চলাচল কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে তা বাড়তে থাকে। গাবতলী, মিরপুর-১, মিরপুর-১২ ও মিরপুর-১৪ নম্বর সেক্টর থেকে সকালে প্রায় সব রুটের গণপরিবহন চলাচল করলেও সংখ্যায় ছিল কম। অন্য হরতালে প্রাইভেট কার চোখে না পড়লেও বামপন্থি দলগুলোর এই হরতালে ঢাকার রাস্তায় সকাল থেকেই কিছু প্রাইভেট কার চলতে দেখা যায়। পিপার স্প্রের শিকার সংবাদ কর্মীরাও হরতালের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের পিপার স্প্রের শিকার হয়ে আহত হয়েছেন সংবাদ কর্মীরাও। আহত সংবাদকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশের আচরণে মনে হয়েছে-যেন পিকেটার নয়, সংবাদ কর্মীরাই ছিল তাদের টার্গেট। এমনকি তাদের এ আগ্রাসন থেকে নারী সংবাদ কর্মীরাও রেহাই পাননি। দেশ টিভির সিনিয়র রিপোর্টার নজরুল কবির, এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার আলমগীর স্বপন, দিগন্ত টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার এমএম বাদশা, আরটিএনএন- এর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আরেফিন শাকিল, বাংলানিউজের স্টাফ ফটো করেসপন্ডেন্ট জাহিদ সাইমন ও প্রতিবেদক সাজেদা সুইটিসহ বেশ ক’জন রিপোর্টার, আলোকচিত্রী ও ক্যামেরাম্যান আহত হন। এই হরতাল সেই হরতাল এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীসহ সামপ্রদায়িক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের দাবিতে সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা হরতাল করে। সেই হরতালে বাধা দেয়ার বদলে পুলিশ সহযোগিতা করেছিল বলে অভিযোগ এনেছিল বিএনপি। সেদিনের হরতালে ভাংচুর ও জ্বালাও-পোড়াও না করার জন্য বামদলগুলোকে ধন্যবাদও জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। ওই হরতাল থেকে শিক্ষা নেয়ার জন্য বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গতকাল একই ধরনের ‘শান্তিপূর্ণ’ হরতাল কর্মসূচিতে পুলিশের চড়াও হওয়ায় সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। হরতাল শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে সেলিম বলেন, এর আগে বামপন্থিদের ডাকা হরতালে সরকার নমনীয়ভাব পোষণ করে বামপন্থিদের নিজেদের সহযোগী বলে প্রমাণ করা ও আমাদের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। আর এবার একই ইস্যুতে হরতাল আহ্বান করলেও পুলিশ স্ববিরোধী আচরণ করছে। সিলেটে শান্তিপূর্ণ হরতাল পালন সিলেট অফিস জানায়, আধাবেলা হরতাল সিলেটে শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। সকাল ৬টা থেকে রাস্তায় নামেন কমিউনিস্ট পার্টি, বাসদ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। নগরীর আম্বরখানা, চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, কোর্ট পয়েন্ট, হকার্স পয়েন্ট, সুরমা পয়েন্ট ও জিন্দাবাজারে খণ্ড খণ্ড মিছিল করে পিকেটিং করেন। অধিকাংশ দোকানপাট ছিল খোলা। যানবাহন চলে। অনেকটা ঢিলেঢালা হয়েছে হরতাল। দুপুরে কোর্ট পয়েন্টে হরতালকারীরা সমাবেশ করে। বক্তব্য রাখেন কমিউনিস্ট পার্টির বেদানন্দ ভট্টাচার্য, অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমন, বাসদের উজ্জ্বল রায়, কমিউনিস্ট পার্টি রমেন্দ্র তালুকদার প্রমুখ। চট্টগ্রাম অফিস জানায়, হরতাল চট্টগ্রামে ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোন ঘটনা ঘটেনি। সকালের দিকে রাস্তায় শুধু রিকশা চলতে দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে অন্যান্য যানবাহন চলাচল শুরু হয়। চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে সব আন্তঃনগর ও অভ্যন্তরীণ ট্রেন সময়মত ছেড়ে যায়। শহরে বাস চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও দূরপাল্লার বাস ছাড়েনি। চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজে পণ্য ওঠা-নামার কাজও স্বাভাবিকভাবে হয়েছে। নগরীর অলংকার মোড়, নিউমার্কেট ও বাদামতলি মোড় ছাড়া হরতালকারীদের আর কোথাও অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। জেলা বাসদের বর্ধিত ফোরামের সদস্য জান্নাতুল ফেরদাউস ইত্তেফাককে জানান, পুলিশ নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে কর্মীদের পিকেটিং করার সময় বাধা দিয়েছে। নিউমার্কেট মোড়ে সিপিবি চট্টগ্রাম সভাপতি মৃণাল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, বাসদ সমন্বয়ক মৃণাল চৌধুরীসহ সিপিবি-বাসদের নেতাদের অংশগ্রহণে হরতালের সমর্থনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমতলী এলাকায় বামমোর্চা হরতালের সমর্থনে মিছিল-সমাবেশ করেছে। বাদামতলী মোড়ে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফ্রন্ট ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রণ্টের নেতাকর্মীরা মিছিল-সমাবেশ করেছেন। নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জে হরতাল সমর্থনকারীদের উপর হামলা চালিয়ে অন্তত ৪জনকে পিটিয়ে আহত করেছে পরিবহন শ্রমিকরা। পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হয়েছে আরো ৫জন। হরতাল চলাকালে নারায়ণগঞ্জের সর্বত্র জীবনযাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও ভোরে পিকেটাররা শহরে মিছিল ও বিক্ষোভ করে কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে। এ ছাড়া আধাবেলা হরতালে নারায়ণগঞ্জ ছিল শান্ত। হরতালে ‘হট স্পট’ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় ছিল শান্ত। এখানে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল ছিল স্বাভাবিক। মিছিলের উপর সন্ত্রাসীদের হামলার প্রতিবাদে দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে হামলার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও ‘অতি উত্সাহী’ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান সিপিবি ও বাসদ নেতারা। হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশ ও শহরে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচী ঘোষণা করেছেন। রাজশাহী অফিস জানায়, রাজশাহীতে হরতাল হয়েছে ঢিলেঢালা। জেলা ও মহানগরীর কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। জলকামানের গাড়িসহ পুলিশ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নেয়। সকাল থেকে সিপিবি, বাসদ ও বাম মোর্চার নেতাকর্মীরা নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে খণ্ড খণ্ড মিছিল-সমাবেশ করেছেন। কাউকে কোথাও পিকেটিং করতে দেখা যায়নি। সকাল ৯টার পর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হালকা যানবাহন চলাচল শুরু হয়। দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীতে যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বেলা ১২টার দিকে বিশেষ করে আন্তঃজেলা রুটের বাসগুলো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যায়। দোকান-পাট খুলতে শুরু করে। বরিশাল অফিস জানায়, পুলিশী বাধার মধ্য দিয়ে হরতাল পালিত হয়েছে। হরতালের সমর্থনে সকাল ৬টা থেকেই মাঠে নামে বাম সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। ভোর থেকেই নগরীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে খণ্ড খণ্ড মিছিল করে হরতাল সমর্থকরা। সকাল ৭টায় গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার নেতাকর্মিরা একটি মিছিল নিয়ে নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে আসতে চাইলে সদর রোডে পুলিশী বাধার মুখে পড়েন। শেষ পর্যন্ত পুলিশী বাধা উপেক্ষা করে মিছিল বের করেন হরতাল সমর্থনকারীরা। ভোরে নগরীর অধিকাংশ দোকানপাট ও যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে হরতাল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকে। বেলা ১১টার পর রিকশা-টেম্পো চলাচলের পাশাপাশি বরিশালের অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বাস চলাচল শুরু করে। রংপুর প্রতিনিধি জানান, হরতাল শান্তিপূর্ণ হয়েছে। পুলিশী বাধা উপেক্ষা করে ভোর ৬টা থেকে ১১টা পর্যন্ত হরতালের সমর্থনে সিপিবি ও বাসদ মহানগরীতে মিছিল করে। পায়রা চত্বরে কমিটির সমাবেশে কুদ্দুস, মমিনুল ইসলাম, রাজেশ দে রাজু প্রমুখ মিছিলে পুলিশী হামলার নিন্দা জানান। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। দূরপালার বাস, মিনিবাস ও ভারী যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর জানান, হরতাল ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছে। সিপিবি ও বাসদ খণ্ড খণ্ড মিছিল ও সমাবেশ করেছে। সমাবেশে সিপিবি’র আলতাফ হোসাইন ও মেহেরুল ইসলাম, বাসদের সন্তোষ গুপ্ত, সবুজসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন। পরশুরাম (ফেনী) সংবাদদাতা জানান, হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও মালবাহী কিছু ট্রাক চলাচল করতে দেখা যায়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ভারী যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি।