দুই বছরে জ্বালানি চাহিদা বৃদ্ধি দ্বিগুণ, খরচ চারগুণ

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৭
ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের জন্য জ্বালানি চাহিদা দ্বিগুণ হয়েছে আর খরচ বেড়েছে চারগুণেরও বেশি। গত দুই বছরে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তেল বেশি ব্যবহার হওয়াতে খরচও হচ্ছে বেশি । আগে ঘাটতি বা ভর্তুকি থাকলেও প্রায় সমপরিমাণ কর বা ভ্যাট দিতো বিপিসি। এখন কর-ভ্যাট বাড়লেও ঘাটতি ও করের ব্যবধানও অনেক বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যতদিন ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র বেশি পরিমাণে থাকবে ততদিন এই খরচ কমানো যাবে না। জানা গেছে, জ্বালানি তেলখাতে ২০০৯-১০ অর্থ বছরে লোকসান হয়েছে ২ হাজার ৫৭১ কোটি ২২ লাখ টাকা। আর এ বছর এর পরিমাণ এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাত্ এ খাতে খরচ বেড়েছে প্রায় চারগুণ। ২০০৯-১০ অর্থ বছরে বেশি ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনে চুক্তি হয়। এর বেশিরভাগ উত্পাদনে যেতে সক্ষম হয় ২০১০-১১ সময়। আর এই সময়েই দেখা যাচ্ছে জ্বালানি তেলের চাহিদা ও লোকসান বেড়েছে। ২০১০-১১ সালে এ খাতে লোকসান দিতে হয়েছে ৯ হাজার ১০০ কোটি টাকা। ২০১০ সালে দেশে জ্বালানি তেল লাগতো বছরে গড়ে ৩০ লাখ মেট্রিক টন। আর এখন লাগছে গড়ে ৬০ লাখ মেট্রিক টন। অবশ্য একই সাথে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সরকারকে আয়ও বাড়িয়ে দিয়েছে দ্বিগুণ। আগে যেখানে গড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা কর-ভ্যাট দিত গত বছর সেখানে দিয়েছে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। অর্থাত্ জ্বালানি তেলখাতে ২০১১-১২ সময় মূল লোকসান বা ভর্তুকি দিতে হয়েছে গড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা। ২০০৯-১০ সালে কর-ভ্যাট দিয়েছে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। আর লোকসান হয়েছে ২ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। অর্থাত্ ঘাটতি ছিল মাত্র ২৭১ কোটি টাকা। ২০০৯-১০ পর্যন্ত বেশিরভাগ সময়ই লোকসান ও কর দেয়ার মধ্যে সমন্বয় ছিল। দুইয়ের পার্থক্য ছিল খুব কম। কিন্তু গত দুই বছর জ্বালানি তেলের ব্যবহার বেশি হওয়াতে এই দুইয়ের দূরত্বও বেড়েছে। বিপিসি ২০১০-১১ সালে কর দিয়েছে ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা। আর লোকসান দিয়েছে ৯ হাজার ১০০ কোটি টাকা। অর্থাত্ মূল ঘাটতি ছিল ৬ হাজার কোটি টাকা। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সরকারের খরচ কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র চালাতে যে বাড়তি খরচ হবে তা কমাতেই দাম বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা জানান, বিপিসি দীর্ঘদিন জ্বালানি তেল বিক্রয়ে লোকসান দিয়ে আসছে। গত প্রায় দুই বছর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বিপিসির লোকসান বেড়েছে। জানা গেছে, দেশে ব্যবহার করা জ্বালানি তেলের প্রায় ৬৫ শতাংশই ডিজেল। বর্তমানে ডিজেল ও কেরোসিনে লিটার প্রতি যথাক্রমে ১৮ টাকা ৭৭ পয়সা ও ১৯ টাকা ১৫ পয়সা ভর্তুকি দিতে হচ্ছিল। এ মাসে দাম বাড়ানোর পর ডিজেল ও কেরোসিন বিক্রিতে লিটার প্রতি যথাক্রমে ১১ টাকা ৭৭ পয়সা ও ১২ টাকা ১৫ পয়সা ভর্তুকি দিতে হবে। জ্বালানি তেল বিক্রিতে ২০১০-২০১১ ও ২০১১-১২ অর্থ বছরে বিপিসিকে সরকার ভর্তুকি হিসেবে ১২ হাজার ৫৪৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঋণ/বন্ড দিয়েছে। চলতি ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরেও ইতিমধ্যে সরকার বিপিসিকে ভর্তুকি হিসেবে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজার ও আন্তর্জাতিক বাজার দর অপরিবর্তিত থাকলে এ অর্থ বছরে বিপিসির প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঘাটতি হতে পারে।