হঠাত্ করেই আলোচনায় উঠে এসেছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ব্যবহূত নতুন ধরনের একটি স্প্রে’র খবর। আর সেটির নাম পিপার স্প্রে (মরিচের গুঁড়া মিশ্রিত স্প্রে)। আন্দোলনরত শিক্ষকদের উপর পুলিশের পিপার স্প্রে নিক্ষেপের পর গতকাল বুধবার বাম দলগুলোর হরতালেও পুলিশ আন্দোলনকারীদের উপর পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করে। এতে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
গতকাল নিজ দফতরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, কোনো ব্যক্তির আগে থেকেই রোগ না থাকলে, পিপার স্প্রের কারণে কারো মৃত্যুর কোনো সম্ভাবনা নেই। এমপিওর দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর পুলিশ পিপার স্প্রে করার কারণে একজন শিক্ষক মারা গেছেন বলে তাদের এমন অভিযোগের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রচলিত আইনে বলা হয়েছে, বেআইনি সমাবেশে জনস্বার্থে বল প্রয়োগ করা যাবে। আমরা অস্ত্রের ব্যবহার সীমিত করেছি। আর এই পিপার স্প্রে আগেও ব্যবহার হয়েছে। আমরা সুক্ষ্মভাবে ব্যবহার করছি। যে শিক্ষকের কথা বলা হচ্ছে, তার মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত করা হলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হতো বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বামমোর্চার হরতাল প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি আইন করে হরতাল বন্ধ করার পক্ষে নই। তবে হরতাল করার মতো নৈতিক ভিত্তি বা কারণ না থাকলে তা করা সঙ্গত নয়। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাম দলগুলোর ডাকা বুধবারের অর্ধদিবস হরতাল চলাকালেও হরতাল সমর্থক ও সাংবাদিকদের ওপর পিপার স্প্রে, টিয়ারশেল ও জলকামান ছুঁড়েছে পুলিশ। দফায় দফায় পুলিশি হামলা, পিপার স্প্রে ও জলকামানে আহত হয়েছেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামানসহ অর্ধশতাধিক রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও সাংবাদিক।
পিপার স্প্রেতে স্থায়ী অন্ধত্ব ঘটতে পারে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুসারে, অন্ধত্ব, বন্ধ্যাত্ব, বিকলাঙ্গ হতে পারে— এমন জিনিস ব্যবহার করা হয় না। শিক্ষকদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ বাড়াবাড়ি কি না এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি, বাড়াবাড়ি নয়। যদি এমপিওভুক্ত হতে চান, তাহলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যাবেন। যদি না হয় তাহলে জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলুন। প্রয়োজনে প্রতিনিধিরা সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করবেন। তাই বলে নিজেদের দাবির নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে ঢাকায় এসে রাস্তাঘাট বন্ধ করবেন, এটা হতে পারে না।
বাম দলগুলোর হরতাল প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হরতাল যৌক্তিক ছিল না, সফলও হয়নি। জ্বালানি তেলের দাম আমরা বাড়াইনি। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে, তাহলে জ্বালানি তেলের দাম কমানো হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এমন কমেনি যে তাতে দাম কমানো যাবে।
