আল্লাহর পথে দাওয়াতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:০৮
দাওয়াত শব্দটি বহুল পরিচিত একটি আরবী শব্দ।এর আভিধানিক অর্থ ডাকা, আহবান করা, আমন্ত্রন জানানো,আবেদন নিমন্ত্রণ, প্রচার করা ইত্যাদি।পরিভাষায় ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির একমাত্র গ্যারান্টি পরিপূর্ণ জীবন বিধান “আল ইসলামের” দিকে আহবান করাকে দাওয়াত বলে।আজকে গোটা মানব জাতি আপন ন্যায্য অধিকার থেকে পদে পদে বঞ্চিত। অজ্ঞতা আর কুসংস্কারে তারা আপাদমস্তক জর্জরিত। অন্যায় আর অবিচারে অতিষ্ঠ। এ চতুর্মূখী অন্ধকার থেকে গোটা মানব মন্ডলীকে উদ্ধার করে আলোর পথে আনয়নের জন্য একমাত্র নির্ভরযোগ্য পন্থা ও বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত সঠিক পদ্ধতিই হচ্ছে দাওয়াত। যুগে যুগে আল্লাহর মনোনিত নবী ও রাসূলগণ মানব মন্ডলীকে নিশ্চিত ধবংসের হাত থেকে রক্ষার জন্যে একমাত্র আল্লাহর দিকেই দাওয়াত দিয়েছিলেন এমনকি সর্বকালের সর্বসেরা মহামানব রাসূলে আকরাম (স.) এই বিপ্লবী দাওয়াতের মাধ্যমেই অজ্ঞ ও নিষ্ঠুর আরবদের সত্য, সুন্দর ও আলোর দিকে এনেছিলেন। একজন দওয়াতদানকারী মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট তাঁর সর্বোত্তম বান্দা বলে পরিচিতি লাভ করেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন, ঐ ব্যক্তির কথার চেয়ে আর কার কথা অধিক উত্তম হতে পারে যে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান করে, নিজে সত্ কাজ করে এবং ঘোষণা করে যে আমি মুসলমান”(হামীম আস সিজদাহ : ৩৩)। রাসূলে আকরাম (স.) বলেন, আল্লাহ ঐ ব্যক্তির মুখ উজ্জল করুন যে আমার কোন হাদীস শুনেছে সেভাবেই তা অপরের নিকট পৌঁছিয়েছে।কেননা অনেক সময় যাঁকে পৌঁছানো হয় সে ব্যক্তি সরাসরি শ্রোতা অপেক্ষা অধিক রক্ষনাবেক্ষনকারী বা জ্ঞানী হয়ে থাকে (তিরমিযী ও ইবনে মাযাহ)। ইসলামে দাওয়াতের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব অপরিসীম। সকল নবী ও রাসূলের প্রথম এবং প্রধান কাজই ছিল পথহারা, পথভোলা, টলমান ধ্বংসের পাহাড়ে দন্ডায়মান মানুষগুলোকে দাওয়াতে হকের মাধ্যমে আল্লাহমূখী করে তোলা। সকলের চাওয়া-পাওয়ার, আশা আকাংখার কেন্দ্র জান্নাতের চির সবুজ পথ ধরিয়ে দেয়া। মহাগ্রন্থ আল কুরআনে দাওয়াতের ঘোষনা বর্ণিত হয়েছে। যেমন হযরত শোয়াইব (আ.) এর দাওয়াত“আর মাদইয়ানবাসীদের প্রতি তাদেরই ভাই শোয়াইব (আ.) কে পাঠিয়েছিলাম। তিনি তাঁর সমপ্রদায়কে ডাক দিয়ে বললেন “হে আমার জাতি, তোমরা আল্লাহর দাসত্ব কর। তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই”।হযরত সালেহ (আ.) এর দাওয়াত:“আর আমি সামূদ জাতির কাছে তাদের ভাই সালেহকে পাঠিয়েছিলাম। তিনি তাঁর জাতিকে ডাক দিয়ে বললেন,” হে আমার সমপ্রদায়ের লোকেরা তোমরা আল্লাহর দাসত্ব কবুল করো। তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই (আ‘রাফ:৭৩)। হযরত হুদ (আ.) এর দাওয়াত:“আর আদ জাতির প্রতি তাদের ভাই হুদ (আ.) কে পাঠিয়েছিলাম, তিনি তাঁর সমপ্রদায়কে ডাক দিয়ে বললেন, “হে আমার সমপ্রদায়ের লোকেরা তোমরা আল্লাহর দাসত্ব কর। আল্লাহ ছাড়া তোমাদের আর কোন ইলাহ নেই।” (আরাফ: ৬৫) আর আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (স.) এর প্রথম গণ ভাষণের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল: “হে মানব মন্ডলী! তোমরা ঘোষণা কর যে, আল্লাহ ছাড়া সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী কেউ নেই। তাহলে তোমরা সফল হবে”। পবিত্র কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেন “(মানুষকে) ডাক তোমার রবের পথে হিকমত ও উত্তম নসীহতের মাধ্যমে” (নাহাল: ১২৫)। “আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও তা (মানুষের কাছে) পৌঁছে দাও” (বুখারী)। দাওয়াত সমাজকে সুন্দরভাবে ঢেলে সাজানোর মাধ্যম। দাওয়াতের মাধ্যমে সমাজ থেকে অন্যায়-অবিচার, জোর-জুলুম, মিথ্যা,অজ্ঞতা, তিমিরতা, নিষ্ঠুরতা,সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি. টেন্ডারবাজি সহ যাবতীয় সব পাপাচার দূরীভূত করে একটি পরিচ্ছন্ন সুন্দর সমাজে রুপান্তরিত করা যায়। রাসূলে আকরাম (স.) ইরশাদ করেছেন— “তোমাদের কেউ যদি কোন অন্যায় কাজ অনুষ্ঠিত হতে দেখে তাহলে সে যেন তা হাত দিয়ে (ক্ষমতা দিয়ে) প্রতিহত করে। আর যদি তার সে ক্ষমতা না থাকে, সে যেন তার (বিবৃতি) দ্বারা বাধা দেয়। যদি তাতেও সে অক্ষম হয় তাহলে সে যেন অন্তরে অন্তরে উক্ত কাজকে ঘৃনা করে (এবং তা প্রতিহত করার পরিকল্পনা পোষন করে) আর এটাই হল ঈমানের র্দূবলতম লক্ষণ। (এরপরে আর মু’মিন থাকার সুযোগ নেই) (মুসলিম, অনুচ্ছেদ-২০, হাদীস নং-৮৫)। মানুষ যদি সত্ কাজের আদেশ ও অসত্ কাজে নিষেধ না করে তাহলে সমাজে অন্যায়, জুলুম, অত্যাচার ইত্যাদি বাড়তেই থাকে। যা আল্লাহর গজবকে ত্বরান্বিত করে।