ক’বছর আগে ইত্তেফাকের এ পাতায় টাকায় দস্তখত ও ঠিকানা লেখাযুক্ত একটি দুই টাকার কাগজি মুদ্রার ছবিসহ আমার একটি লেখা মুদ্রিত হয়। এরপরেও আরো একজন বন্ধুর পাঠানো নামদস্তখত দেয়া অন্য একটি কাগজি মুদ্রার ছবি ছাপা হয়। টাকায় কিছু লেখা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তারপরেও কৌতূহলীজন টাকায় কলম বন্ধু পাবার ও হবার মানসে নাম ঠিকানা কিংবা মোবাইল ফোন নাম্বার লিখে থাকেন। এ অত্যন্ত গর্হিত কৌতূহল। একান্তভাবে এটি বন্ধ হবার প্রস্তাব রাখছি। কিন্তু সেই সঙ্গে না বললেই নয় যে, টাকাতে পেরেক মেরে ছিদ্র করে তাতে লাল সাদা রঙের পাকানো সুতা দিয়ে বেঁধে তার ওপর আঠা মেখে কাগজ লাগিয়ে নতুন বান্ডিল কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোই করে। এর দেখাদেখি কিছু এনজিওও এমনটা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে স্টাফলার মারা টাকার বান্ডিল আসে বাণিজ্যিক ব্যাংক অথবা জনসাধারণের হাতে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সে বান্ডিল থেকে অ্যাকাউন্টধারী বা চেকবহনকারীকে চাহিদা মতো কিছু পরিমাণ টাকা দিয়ে হিসেব করে কত টাকা রইল, তার সংখ্যাটি ব্যাংক ক্যাশিয়াররাই ঐ বান্ডিলে লিখে রাখেন। ব্যক্তিগত পর্যায়ে অন্যরাও যে লেখে না তা নয়। তবে সম্ভবত পেরেক বা ভোমর দিয়ে ছিদ্রকরণ ও নতুন বান্ডিলকরণ প্রক্রিয়াটি জনসাধারণ করে না। তাই কাগজি মুদ্রার প্রধান ক্ষতিসাধন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোই করছে।
তবে টাকার অসতর্ক ব্যবহার হচ্ছে বাজারে মাছ মাংস পান দুধ ও গুড় বিক্রেতার হাতে। তারা পানি রক্ত দুধ ও গুড়মাখা হাতে যখন টাকা আদান প্রদান করছে তখনই টাকার বারোটা বাজছে। এক্ষেত্রে খুব একটা করণীয় আছে বলে মনে হয় না। বরং কাগজি মুদ্রার মান নির্বাচন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককেই আরো তত্পর হতে হবে যাতে পানি রক্ত দুধ গুড় কিংবা অন্য কোনো তরল পদার্থ মিশে খুব সহজেই কাগজি মুদ্রা নষ্ট হতে না পারে।
সচ্চিদানন্দ চক্রবর্তী,
সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা,
ভালুম আতাউর রহমান খান কলেজ,
কালামপুর, ধামরাই
ঢাকা ১৩৫১
