বন্ধ হোক হরতাল সংস্কৃতি

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:০৩
হরতাল ডাকা যেমন গণতান্ত্রিক অধিকার তেমনি কোন নাগরিক সেই ডাকে সাড়া দিতে না চাইলে সেটাও তার গণতান্ত্রিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে। কিন্তু স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশে হরতালের প্রয়োজন নেই। পশ্চিমা উন্নত ও গণতান্ত্রিক দেশে সচরাচর হরতাল হতে দেখা যায় না। অনেকে মনে করেন হরতাল বামপন্থী শব্দ যা এখন অকার্যকর। কেননা হরতালে অবশ্যই মারাত্মক ক্ষতি হলেও সরকার পরিবর্তনের নজির নেই। সরকার পরিবর্তন হয় নানা হিসেব-নিকেশের ফলে। বস্তুত, হরতাল একটি নৈরাজ্যজনক কর্মকাণ্ড। অন্যদিকে এটা এনে দেয় অস্থিরতা। এতে করে মানুষের জীবন হয়ে পড়ে স্থবির। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ। ক্ষতি হয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকের, খেটে খাওয়া মানুষের ও বিভিন্ন পেশাজীবীসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের। হরতালে দুর্ভোগের কবলে পড়ে নানাবিধ মানুষ। অসুস্থ রোগীকে নিয়ে পড়তে হয় বিপাকে। হরতালে জ্বালাও পোড়াওয়ের মাধ্যমে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয় তা বন্ধ হওয়া দরকার। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যেন আরও সংঘাতময় হয়ে না ওঠে সেজন্য সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে সহনশীলতার পরিচায় দিতে হবে। হরতালের বিকল্প হিসেবে মানববন্ধন, মানবপ্রাচীর, সভা-সমাবেশ, মিছিল বঙ্গভবন, গণভবন ঘেরাও ইত্যাদি করা যায়। তবু আমরা দেশের মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত দেখতে চাই না। তাই হরতাল সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া দরকার। সৈয়দ সাইফুল করিম, মিরপুর-১, ঢাকা