করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাদিছ মিয়াকে গত মঙ্গলবার এলাকাবাসী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। বেলা ৩টা থেকে অবরুদ্ধ করে রাখার পর রাত ১১টায় পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। উচ্চমূল্যে ফরম বিক্রয় এবং ধীরগতির কারণে দুই শতাধিক ফরম নিবন্ধিত করতে না পারায় বিক্ষুব্ধ লোকজন তাকে অফিসকক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। বুধবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অফিস তালাবদ্ধ ও দুই-তিন শতাধিক লোক কার্যালয় প্রাঙ্গণে ঘোরাঘুরি করছে। জনৈক সফিউদ্দিন অভিযোগ করেন, তার কাছ থেকে ৫০ টাকার বদলে ১ হাজার ১৩০ টাকা এবং বাবুল ও আউয়াল জানান, তাদের নিকট থেকে ৭০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এই ইউপি কার্যালয় থেকে ৫৩৬টি ফরম প্রদান করা হলেও ৩১৩টি ফরম নিবন্ধিত করা হয়েছে। এদিকে ইউপি সচিব কাঞ্চন মিয়া জানান, ইউএনও’র নির্দেশে বাকি ফরম গ্রহণকারীদের মধ্যে সরকার নির্ধারিত ৫০ টাকা ফেরত দেয়া হচ্ছে। এদিকে বক্তব্য জানার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
নাগেশ্বরী সংবাদদাতা জানান, নাগেশ্বরীতে নিবন্ধনে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদেরকে ফেরত পাঠানো হয়। উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের তথ্যসেবা কেন্দ গুলোতে বুধবার সকাল থেকে মালয়েশিয়ায় গমনেচ্ছুক কর্মীদের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়। কয়েকটি ইউনিয়নে আগ্রহী প্রার্থীদের নিকট আদায় করা হচ্ছে ৫০ টাকার পরিবর্তে ১২০ টাকা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রায়গঞ্জ ইউনিয়নে জনপ্রতি নমুনা ফরম বাবদ ২০ টাকা এবং ফরম পূরণে নেয়া হচ্ছে ৫০ টাকা। নেওয়াশীতে নমুনা ফরম ২০ টাকা ও ফরম পূরণে নেয়া হচ্ছে ১০০ টাকা। কোন কোন ক্ষেত্রে সুযোগ বুঝে অনেকের নিকট নেয়া হচ্ছে সর্বমোট ২০০ টাকা। ইউপি সচিবের হাত দিয়ে গ্রহণ করা হচ্ছে এ টাকা। নেওয়াশী ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বলেন, এখানে অনিয়মের কোন সুযোগ নেই। তার অজান্তে কয়েকজনের নিকট অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করা হলেও পরে তিনি সেগুলো ফেরত দিতে বলেছেন।
