সুষ্ঠু যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় কাজীপুর উপজেলার চরাঞ্চলের ৬টি ইউনিয়নের প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষকে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষা মৌসুমে নৌকা এবং শুষ্ক মৌসুমে মাইলের পর মাইল বালুর চর ঠেলে ঘোড়ার গাড়িতে এবং কোথাও কোথাও হাঁটুপানি পার হয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করতে হয়। মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে বিশেষ করে কৃষিপণ্য চর থেকে শহরে আনতে গিয়ে কৃষকরা চোখের পানি ফেলে। কৃষি পণ্য বিক্রির পর লভ্যাংশের বেশিরভাগই পরিবহন খরচে ব্যয় হয়। চরাঞ্চলের পরিবহন বলতে নৌকা এবং প্রাচীন আমলের ঘোড়ার গাড়িই মালামাল ও যাত্রী পরিবহনের একমাত্র বাহন। চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও চরের বাসিন্দাদের খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে, চরাঞ্চলের বালি মিশ্রিত মাটিতে মরিচ, বাদাম, কালাই, আখ, ভুট্টাসহ বিভিন্ন মসলার ও সবজির ব্যাপকভাবে আবাদ হয়ে থাকে। অধিক ফসল চাষ করে শহরে এনে তারা বিক্রি করে জীবন-যাপনের অধিক প্রয়োজনীয় জিনিসের চাহিদা মেটায়। যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় চরাঞ্চলবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
চরাঞ্চলের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল হক দুদু ও এম কামরুল হাসান জানান, চরাঞ্চলে এখন স্কুল-কলেজ মাদ্রাসাসহ নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় নানা ফসল উত্পাদন হচ্ছে। বিশেষ করে মরিচ ও সবজির আবাদ বহু গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকার কারণে পণ্য আনা-নেয়া এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
