গুরুদাসপুরে বর্জ্য ফেলে নন্দকুঁজা নদী দূষণ

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:১৫
বাবলু মোল্লা (৪০)। শৈশব থেকেই নন্দকুঁজা নদীতে গোসল করেন। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে তিনি আর নদীতে যান না। গোসল করেন পৌরসভার পাইপ লাইনে সরবরাহ করা পানিতে। কারণ নদীর পানি ময়লা-আবর্জনা ফেলায় লালচে হয়ে উঠেছে। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারদিকে। তার মতে, নদীর পানি ব্যবহারের অনুপযোগী, নদীতে নামলেই শরীর চুলকায়। অনেকের খোস-পাঁচড়া হয়েছে। আগে এমনটি হয়নি । স্থানীয়রা জানায়, নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর শহরের বুকচিরে বয়ে গেছে নন্দকুঁজা নদী। এই নদীর তীরে গড়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় ব্যবসা বন্দর চাঁচকৈড় ও গুরুদাসপুর হাট-বাজার। প্রতিদিন ভোরে পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীরা শহর পরিষ্কার করেন। হাট-বাজারের আবর্জনা, বাসা-বাড়ির উচ্ছিষ্ট তারা গাড়িতে করে নির্বিচারে ফেলেন নন্দকুঁজা নদীর তীরে। এসব আবর্জনা নদীর পানিতে মিশছে। আবর্জনার কারণে নদীর পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। কিন্তু কেউ কোন প্রতিবাদ করছেন না। এ নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে অনেক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। বাবলু মোল্লার কথার সত্যতা পাওয়া যায় নদকুঁজা নদীতে গিয়ে। নদীটির চাঁচকৈড় বাজারের রসুন হাট, সাহাপাড়া ঘাট, বামনকোলা ও গুরুদাসপুর বাজার ঘাট এলাকায় নির্বিচারে প্রচুর বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। শহরের রসুনহাটা এলাকায় দেখা যায়, পরিচ্ছন্ন কর্মীরা আবর্জনা ফেলে যাওয়ার পর পরই কুকুর ও কাকের দল উচ্ছিষ্ট খুঁজতে প্রতিযোগিতা শুরু করে। আবর্জনা নিয়ে কাড়াকাড়ি করার ফলে দুর্গন্ধে এলাকায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় চায়ের দোকানি রুহুল জানান, এই সমস্যা নতুন নয়। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই নদীতে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এসব আবর্জনার দুর্গন্ধে তারা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তবে দুঃখ হয়-চোখের সামনে নদীটি ভরাট হয়ে পড়ছে। সেসাথে নদীর পানিও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। চাঁচকৈড় বাজারের ব্যবসায়ী ওমর আলী শেখ ও প্রশান্ত কুমারমানী জানান, নদীটি শহরের প্রাণ। এই নদীকে ঘিরেই গুরুদাসপুর পৌরসভাসহ উপজেলার আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটেছে। অথচ নদীটিকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসছে না। এটা দুঃখজনক। এলাকার প্রবীণ শিক্ষক আব্দুল মান্নান মাস্টার জানান, কৈশোর বয়স থেকেই তিনিসহ নদী পাড়ের মানুষ নদীতে গোসল করতেন। সেসাথে জমিতে সেচ এবং নিত্য ব্যবহার হতো নন্দকুঁজার পানি। প্রায় ১২ মাসই নদীতে পানি থাকতো। জেলেরা মাছ ধরতেন। চলতো বড় বড় নৌকা। পাওয়া যেত নানা রকম মাছ। কিন্তু এখন বছরের ২/৩ মাস নৌকা চললেও মাছ পাওয়া যায় না। ময়লা-আবর্জনার কারণে নদীটির পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তার মতে, শুধু পৌরসভার আবর্জনা নয়। নদী এলাকার বয়লার চাতালের ছাই, বাসাবাড়ির ময়লা, মিল-কারখানার বর্জ্য যথেচ্ছভাবে নদীতে ফেলার কারণেই নন্দকুঁজার পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। গুরুদাসপুর পৌরসভার মেয়র শাহনেওয়াজ আলী জানান, পৌরসভা গঠনের পর থেকেই নদীতে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। নদীর ক্ষতির বিষয়টি ভেবে দেখা হয়নি। আগামীতে শহরের ভেতরে বা বাইরের কোন ডোবা- নালায় বর্জ্য ফেলার উদ্যোগ নেয়া হবে।