পাকিস্তানে তেহরিক-ই-মিনহাজ-উল কুরআনের নেতা তাহির-উল-কাদরির হঠাত্ করে যে আন্দোলন শুরু করেছেন তাতে সেদেশে অভ্যুত্থানের আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেফতারে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকরা আশঙ্কা করছেন, সেনাবাহিনী এই পরিকল্পনা করছে। এক্ষেত্রে তারা কাদরিকে সামনে নিয়ে আসতে পারেন। খবর ডন-এর।
গতকাল বৃহস্পতিবার কাদরির সঙ্গে সরকারের একটি প্রতিনিধি দলের আলোচনা করার কথা। এছাড়া কাদরির কর্মসূচিতে অর্থের যোগানদাতাদের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি। কাদরি কানাডা থেকে এসে হঠাত্ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন এবং তার বক্তৃতায় সামরিক বাহিনীর প্রশংসাও করতে দেখা গেছে। রাজনীতিবিদরা মনে করছেন, তার আন্দোলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে বর্তমান সরকারের পতন ঘটানো। আর এই সরকারের পতন হলে সেনা বাহিনী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়ার সুযোগ পাবে। মাহমুদ খান আসাকজাই নামে এক রাজনীতিবিদ বলেন, আমরা যা দেখছি তা খুবই ভয়াবহ এবং মনে হচ্ছে অসাংবিধানিক তৃতীয় কোনো শক্তি ক্ষমতায় আসবে।
তবে সামরিক বাহিনী কাদরির সঙ্গে তাদের সংযুক্ত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। দেশটির সেনাপ্রধান আশফাক পারভেজ কায়ানি রাজনীতি থেকে দূরে থেকে ইতিমধ্যে সুনাম কুড়িয়েছেন। তার পূর্বসূরীরা বেসামরিক প্রশাসনকে হটাতে কোনো ধরনের কার্পণ্যবোধ করেননি। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর ৬৫ বছরে অর্ধেকের বেশি সময় সামরিক শাসনের অধীনে পরিচালিত হয়েছে পাকিস্তান। সমালোচকদের মতে, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতের রেকর্ড রয়েছে।
কানাডায় ছয় বছর বসবাস করে নির্বাচনের কয়েক মাস আগে দেশে ফিরে কাদরি যে আন্দোলন করছেন তা ভালো চোখে দেখছেন না অনেকে। কারণ ১৯৯৯ সালে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল পারভেজ মোশাররফের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থানকে সমর্থন জানিয়েছিলেন এই কাদরি। কাদরি গত সোমবার থেকে শুরু করা আন্দোলনে বলে আসছেন, আগামী মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন উপলক্ষে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ব্যাপারে সেনাবাহিনীর কিছু বলা উচিত।
পিপিপি’র আশঙ্কা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে হস্তক্ষেপ করতে পারে সেনাবাহিনী। গত বছর পাকিস্তানে একটি অস্থায়ী সরকার গঠনের বিষয়ে একটি আইন পাস হয়। নির্বাচনে করাচুপি রোধের জন্য সরকার ও বিরোধী দলের সমঝোতায় এই সরকার গঠন হবে। গত কয়েক মাস ধরে ক্ষমতাসীন পিপিপি এবং বিরোধী দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে আলোচনা করছে। সামরিক শাসনকে প্রতিরোধে এটা করা হচ্ছে।
গত বুধবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের দলসহ বিরোধী দলগুলো গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করে এমন কোনো অসাংবিধানিক সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। জঙ্গি দমনে ব্যর্থতা, খাদ্যে মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন সময় সামরিক অফিসাররা বর্তমান সরকারের সমালোচনা করেছেন। একজন সামরিক অফিসার রয়টার্সকে বলেন, সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের কোনো আশঙ্কা নেই। তবে রাজনৈতিক সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয় সেক্ষেত্রে সামরিক বাহিনী মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করতে পারে। জামিয়াত উলেমা-ই-ইসলাম-ফজল এর নেতা মাওলানা ফজলুর রেহমান একটি টেলিভিশনকে বলেন, কাদরি যে কারো সহযোগিতা ছাড়া কিছু করছেন না সেটি বোঝা যাচ্ছে।
সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের আলোচনা সামনে আসে গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী রাজা পারভেজ আশরাফকে সুপ্রিম কোর্ট একটি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতারের নির্দেশ দিলে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এর পেছনে সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগের ষড়যন্ত্রকে দায়ী করা হয়েছে। আর কাদরি যদি বর্তমান সরকারকে হটাতে সক্ষম হন তাহলে দেশটিতে কোনো বেসামরিক সরকার তার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না। গতকাল বিকাল পৌনে চারটা পর্যন্ত সরকারকে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন কাদরি।
