বঙ্গোপসাগরে নৌবাহিনীর মিসাইল উেক্ষপণ

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৮
সফল মিসাইল উেক্ষপণ করলো বাংলাদেশ নৌবাহিনী। ১৬ দিনব্যাপী এ মহড়া শেষে গতকাল গভীর সমুদ্রে এ মিসাইল উেক্ষপণ হয়। এর মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে নৌবাহিনীর বার্ষিক মহড়া এক্সারসাইজ সী থান্ডার-২০১৩ মহড়া। মহড়ায় অংশ নেয় ছোট বড় ৫৫টি জাহাজ। উপস্থিত ছিল বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। মহড়ায় দুটি পক্ষ দেখানো হয়, একটি কক্সল্যান্ড আরেকটি হিরণল্যান্ড। দুই দেশের রাঙ্গাবালি নামে একটি দ্বীপ নিয়ে শুরু হয় উত্তেজনা। এমন কাল্পনিক দুটি দেশের মধ্যে মহড়াটি সাজানো হয়। মহড়ার সমাপনী দিনে বিএনএস বঙ্গবন্ধু জাহাজে উপস্থিত থেকে মহড়া অবলোকন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, নৌবাহিনীর প্রধান ভাইস এডমিরাল জহিরউদ্দিন আহমেদ, আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ প্রমুখ। দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে গভীর সমুদ্রে যুদ্ধজাহাজ ধলেশ্বরী থেকে দূরপাল্লার মিসাইল নিক্ষেপ করা হয় শত্রু জাহাজে। এরপর বিএনএস বঙ্গবন্ধু থেকে বিমান বিধ্বংসী শক্তিশালী মিসাইল নিক্ষেপ করা হয় আকাশে স্টার সেলে (প্রতীকী লক্ষ্যবস্তু)। জাহাজ থেকে গভীর জলে সাবমেরিন বিধ্বংসী রকেট ছোঁড়া হয়। পাশাপাশি মহড়া দেখানো হয় জলদস্যুদের কবল থেকে কিভাবে জাহাজ ও ক্রদের উদ্ধারের মহড়া। এতে অংশ নেয় নৌবাহিনী চৌকস কমান্ডো ইউনিট। মহড়া শেষে নৌবাহিনীর বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৩০টির মতো জাহাজ বিএনএস বঙ্গবন্ধু জাহাজটিকে অভিবাদন জানায়। বিকালে মহড়া শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, সমুদ্রসীমা রক্ষায় নৌবাহিনীকে আরো শক্তিশালী করা হবে। এ সময় নৌবাহিনী প্রধান বলেন, নৌবাহিনী একমাত্র সার্ভিস যারা চব্বিশ ঘণ্টায় সমুদ্র পাহারা দিয়ে থাকে। চল্লি¬শ বছরে সরকার নৌবাহিনীর দিকে নজর দেয়নি। বর্তমান সরকার গত চার বছরে ১৬টি জাহাজ নৌ-বহরে যুক্ত করেছে। সাবমেরিনের জন্য চুক্তিসম্পন্ন হয়েছে। ধলেশ্বরী ও বিজয়কে আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। আরো চারটি জাহাজকে আধুনিকীকরণ করা হবে। নৌবাহিনীকে আধুনিকীকরণের জন্য বিভিন্ন দেশে প্রশিক্ষণে পাঠানো হচ্ছে, আবার দেশেও বিদেশি প্রশিক্ষক আনা হচ্ছে। এ মহড়ায় অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফ্রিগেট, করভেট, ওপিভি, মাইনসুইপার, পেট্রোলবোট, গানবোট, টর্পেডো বোটসহ ছোটবড় ৫৭টি জাহাজ এবং সদ্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে সংযোজিত মেরিটাইম হেলিকপ্টার। এছাড়াও, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, সেনা ও বিমানবাহিনীসহ সরকারের ৭টি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ১৯টি সংশ্লিষ্ট মেরিটাইম সংস্থা মহড়ায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে। মোট চারটি ধাপে অনুষ্ঠিত এ মহড়ার উল্লেখযোগ্য দিকসমূহে অন্তর্ভুক্ত ছিল নৌ-বহরের বিভিন্ন কলাকৌশল অনুশীলন, সমুদ্র এলাকায় পর্যবেক্ষণ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, লজিষ্টিক অপারেশন, ল্যান্ডিং অপারেশন, উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত নৌ-স্থাপনাসমূহের প্রতিরক্ষা মহড়া প্রভৃতি।