ভাগ্যোন্নয়ন ঘটেছে ৩০ হাজার নারীর

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৮
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়ন ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহযোগিতায় পরিচালিত হতদরিদ্রদের খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের অধীনে ৩০ হাজার মহিলা ও তাদের পরিবারের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকল্পের কার্যকাল সমাপনী উপলক্ষে টাঙ্গাইলের যমুনা রিসোর্টে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলা, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি, সাহাজাতপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা এবং পাবনার ভাঙ্গুরা, বেড়া ও সুজানগর উপজেলায় তিনটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে ২০০৯ সাল থেকে তিন বছরব্যাপী এই প্রকল্প পরিচালিত হয়। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির পাবলিক ইনফরমেশন এসোসিয়েট আনিকা রব্বানীর সঞ্চালনায় আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের খাদ্য নিরাপত্তা কার্যক্রমের ব্যবস্থাপক জোয়াও আনসেলমো। তিনি বলেন, সহযোগিতা পেলে এদেশের হতদরিদ্র মহিলারাও যে তাদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারেন এ প্রকল্পের সাফল্যই তার প্রমাণ। প্রকল্পের সাফল্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সোসাল সেফটি নেটস’র প্রধান মেই লিউ। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রধান রেজাউল করিম, গ্রামীণ উন্নয়ন কর্মের (গাক) সহ-সভাপতি আফজাল হোসেন, আছিয়াব-এর চেয়ারম্যান শরিফুল আলম ও এনডিপি’র চেয়ারপারসন মাহজাবিন মাহফুজ, সিরাজগঞ্জের মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম এবং এই প্রকল্পের আওতায় ভাগ্যোন্নয়ন ঘটানো মহিলাদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন তাদের তিন প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জের মোসাম্মত্ নুরুন্নাহার, পাবনার জাহানারা আক্তার ও বগুড়ার শাহনাজ পারভীন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গ্রামীণ উন্নয়ন কর্ম (গাক) বগুড়ায়, এনডিপি সিরাজগঞ্জে ও আছিয়াব পাবনায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পের অধীনে প্রাথমিক পুঁজি হিসেবে প্রতিটি হতদরিদ্র মহিলাকে ১৪ হাজার টাকা এবং পরবর্তী সময় আরো ১৪ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। প্রকল্পের অধীনে প্রশিক্ষণ এবং তদারকির মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন ব্যবসায় পরিচালনায় সহায়তা করা হয়। প্রকল্পভুক্ত প্রতিটি উপকারভোগী মহিলা তাদের দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি সর্বনিম্ন ৪০ হাজার টাকা থেকে দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় করেছেন। তারা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়াসহ জীবনের মানোন্নয়ন ঘটিয়েছেন বলে উপকারভোগী মহিলা বক্তারা উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে ১৭ জন সফল মহিলার মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, কেয়ার ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ প্রকল্পের উপকারভোগী মহিলা প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।