চট্টগ্রামে বেসরকারি স্কুলে টিউশন ফি বৃদ্ধি

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২১
শিক্ষার মান না বাড়লেও চট্টগ্রামে টিউশন ফি বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা চলছে বেসরকারি স্কুলগুলোতে। নগরীর বাংলা, ইংরেজিসহ সব মাধ্যমের স্কুলেই প্রতিযোগিতা করে টিউশন ফি বাড়ানো হয়েছে। টিউশন ফি ছাড়াও বিভিন্ন খাতের নাম করে অভিভাবকদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্কুলগুলো ছাড়পত্র (টিসি) প্রদানের জন্যও অভিভাবকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা দাবি করছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। জানা গেছে, এবার বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারি স্কুলে ১০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত টিউশন ফি বাড়ানো হয়েছে। টিউশন ফি বাড়ানোর তালিকায় অন্যতম হলো সাউথ পয়েন্ট স্কুল, বে ভিউ স্কুল, রেডিয়েন্ট স্কুল, সানশাইন গ্রামার স্কুল, লিটল জুয়েলস স্কুল, বাংলাদেশ এলিমেন্টারি স্কুল ইত্যাদি। তবে এক্ষেত্রে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ। চলতি বছর থেকে এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শিক্ষার্থীর অভিভাবককে টিউশন ফি বাবদ গুনতে হবে আগের বছরের চেয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ টাকা। নগরীর আরেক নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চিটাগং গ্রামার স্কুলের (সিজিএস) অভিভাবকরাও প্রায় একই সমস্যায় পড়েছেন। প্রায় প্রতি বছরই নানা অজুহাতে টিউশন ফি বাড়ায় এই ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলটি। বাড়তি টিউশন ফির ঘানি টানতে হয় অভিভাবকদের। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এ স্কুলে ভর্তির জন্য নেয়া হয় মোটা অঙ্কের ডোনেশন। যার পরিমাণ শুরু ৩৫,০০০ টাকা থেকে। গত বছর টিউশন ফি বাড়ানোর কারণে অভিভাবকরা প্রতিবাদ করেছিলেন। ওই ঘটনায় স্কুলটি কয়েকদিন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। পরে স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় আবার ক্লাস শুরু হয়। এদের মতো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে টিউশন ফি বাড়িয়েছে চট্টগ্রামের আরো কয়েকটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মানসহ আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি। চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে এরা শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ক্লাস রুমের কথা বলা হলেও ক্লাস রুমগুলোতে থাকে না পর্যাপ্ত সিলিং ফ্যানও। খুপড়ির মতো ক্লাস রুমে গাদাগাদি করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ক্লাস নেয়া হয়। এক চিলতে খেলার মাঠ নেই বলতে গেলে কোনো স্কুলেই। টিউশন ফি ছাড়াও সারা বছর জুড়েই নানা অজুহাতে অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম পাবলিক স্কুল ও কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া সন্তানের টিউশন ফি বাবদ গত বছর তিনি প্রতি মাসে ৭৫০ টাকা করে দিয়েছেন। এবার সপ্তম শ্রেণীতে তা এক লাফে ১৪০০ টাকা করা হয়েছে। এভাবে প্রতিটি শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বাড়ানো হয়েছে বলে ঐ অভিভাবক উল্লেখ করেন। অভিযোগ পাওয়া গেছে, বর্তমান স্কুল ছেড়ে অন্য স্কুলে যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র চাইতে গিয়েও ভোগান্তির স্বীকার হয়েছেন অনেক অভিভাবক। নগরীর একটি স্কুলের এক ছাত্রের বাবা জানান, তার ছেলে নগরীর অন্য একটি ভালো স্কুলে ভর্তি হওয়ায় স্কুল থেকে ছাড়পত্র চাইতে গিয়ে নাকাল হয়েছেন তিনি। ঐ স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রথমে ছাড়পত্রের জন্য তিন হাজার টাকা দাবি করলেও পরে তা আরো বাড়িয়ে দশ হাজার টাকা দাবি করা হয়।