রাজধানীর সেগুনবাগিচায় গণপূর্তের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ক্যাডাররা ঠিকাদারদের অবরুদ্ধ করে রাখে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোয়া কোটি টাকা কাজের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ করে গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় হামলা, টেন্ডার ডকুমেন্টস ফেলে দেয়াসহ নানা ধরনের তাণ্ডব চলেছে। ঠিকাদারদের ওপর হামলা করে বাইরে বের করে দেয়ার অভিযোগও উঠেছে। ঠিকাদারদের আটকে রাখার সংবাদে গণপূর্তের স্থানীয় কার্যালয়ের বিভিন্ন অফিস কক্ষে তল্লাশি চালিয়েছে র্যাব সদস্যরা; কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে র্যাব কাউকে উদ্ধার কিংবা আটক করতে পারেনি। গতকাল সেগুন বাগিচার সরকারি ২ নম্বর ১২ তলা ভবনের ১২ তলায় গণর্পূতের ডিভিশন-৪/র কার্যালয়ে এসব ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী লুত্ফুল আজিজ বলেন, কাউকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা তার জানা নেই। তবে টেন্ডার ড্রপ করতে দেয়া হচ্ছে না এবং টেন্ডার ডকুমেন্টস ফেলে দেয়ার মতো একাধিক অভিযোগ করেছে ঠিকাদাররা। র্যাব ও পুলিশের সহযোগিতায় গ্রীন কনসোর্টিয়াম নামে একটি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার ড্রপ করেছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সোলার সিস্টেমের কাজের জন্য ১ কোটি ১৫ লাখ টাকার টেন্ডার জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল। গণপূর্ত বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অফিস কর্মচারী জানান, সকাল ৮টার সময় অফিসে ঢুকে কয়েকজন যুবক টেন্ডার বক্স খুলে ডকুমেন্টস ফেলে রেখে যায়। এরপর সকাল সাড়ে ৮টায় আবার অন্য একটা গ্রুপ এসে টেন্ডার বক্স ফেলে উপুর করে রাখে। এর কিছু সময় পর তারা টেন্ডার বাক্স নিয়ে যায়। সকাল ১০টার দিকে রহিম আফরোজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সিডিউল জমা দিতে এলে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে যুবলীগের ক্যাডাররা। এরপরই সকাল সাড়ে ১১টার সময় ইস্টার্ন ইলেকট্রিক-নিউ ন্যাশন সোলার জে-ভি (জয়েন্ট ভেঞ্চার) লোকজন সিডিউল জমা দিতে গেলে তাদের প্রথমে টেনে-হিঁচড়ে মারধর করে ১২ তলা থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। এ সময় ক্যাডাররা যুবলীগ নেতা ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরন্নবী চৌধুরী শাওনের নামে শ্লোগান দেয়। তারা নিজেদের এমপি শাওনের লোক বলে পরিচয় দেয়। পরবর্তীতে ঐ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুলিশের সহযোগিতায় সিডিউল জমা দিয়ে আসে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যুবলীগ ক্যাডাররা তাদের গণপূর্তের একটি অফিস কক্ষে আটকে রাখে। পরবর্তীতে র্যাব আসার সংবাদে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে যুবলীগ ক্যাডাররা।
সহকারী প্রকৌশলী গণপূর্ত ডিভিশন-৪ ই/এম-এর স্টাফ অফিসার সহকারী প্রকৌশলী ইউসুফ সাংবাদিকদের জানান, টেন্ডার জমা দিতে পারেনি এ ধরনের একটা অভিযোগ তাদের কাছে রয়েছে। তবে কোন প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করেছেন তা বলতে পারবেন না।
ইস্টার্ন ইলেকট্রিক-নিউ ন্যাশন সোলার জে-ভির (জয়েন্ট ভেঞ্চার) প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, সিডিউল জমা দেয়ায় এক সংসদ সদস্যের মদদপুষ্ট ক্যাডাররা তাদের আটকে রাখে। এ জন্য তারা পুলিশকে ফোন করেছেন কয়েক দফা; কিন্তু কোনো সাড়া না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা র্যাবের কাছে ফোন করেন। অন্যদিকে গ্রীন কনসোর্টিয়ামের কর্মকর্তারা জানান, তারা কয়েকবার সিডিউল জমা দিতে গেলে যুবলীগের ক্যাডাররা পুলিশের সামনেই তাদের বাধা দেয়। তারা সিডিউল জমা দিতে না পারায় মগবাজার র্যাব-৩কে ফোন করেন; কিন্তু র্যাব ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে টেন্ডার জমাদানের সময় শেষ হয়ে যায়। ফলে তারা আর সিডিউল জমা দিতে পারেননি।
ঘটনাস্থলে আসা মগবাজার এলাকার র্যাব-৩-এর ডিএডি (উপ-সহকারী পরিচালক) সিরাজুল ইসলাম বলেন, তাদের কাছে অভিযোগ গেছে যে, এখানে টেন্ডার ড্রপ করতে দেয়া হচ্ছে না। গ্রীন কনসোর্টিয়ামের লোকজনকে মারধর করে বের করে দেয়া হয়েছে। র্যাব ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তল্লাশি করে কোনো ঠিকাদারকে এরকম অবরুদ্ধ রাখা অবস্থায় পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে শাহবাগ থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ জানায়, কোনো ঠিকাদার টেন্ডারে বাধাদান বা মারধরের ব্যাপারে মামলা করেনি।
