উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গুরু প্রসাদের বিরুদ্ধে ভূয়া ভাউচারে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের মহা-পরিচালকের বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা অফিসের পরিদর্শিকা ফরিদা বেগম, পরিদর্শক হাফিজুর রহমান, অফিস সহকারী মিজানুর রহমান ও আয়া গীতা রাণী বিশ্বাস লিখিত অভিযোগে অর্থ আত্মসাত্ ছাড়াও নারী কর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ করেছেন। তবে গুরু প্রসাদ তার বিরুদ্ধে তোলা এই অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলার আমীরপুর, গঙ্গারামপুর ও বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের জন্য আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ সরকার গত অর্থ বছরে ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। এর বাইরে রাজস্ব খাত থেকে ২৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়। রাজস্ব খাতের সেই টাকা দ্বারা গত ২০/৬/১২ তারিখে অটোবির ৬টি চেয়ার ক্রয় দেখিয়ে ২৪ হাজার ৯৯৫ টাকার ভাউচার সংগ্রহ করেন ওই কর্মকর্তা। কিন্তু অটোবিতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৫টি চেয়ারের দাম ২০ হাজার ৫শ’ টাকা দেখিয়ে ১/৭/১২ তারিখে তা ডেলিভারী নিয়েছেন। অপরদিকে, সরকারি বরাদ্দের ৪০ হাজার টাকা তুলে নিলেও তা দিয়ে কোনো ফার্নিচার কেনেননি। অথচ উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস জানায়, গত ২১/৬/১২ তারিখে ২৭ নম্বর বিলে ৬১৫ নম্বর টোকেনে আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ ৩৯ হাজার ৯২৭ টাকা পাশ হয়। গঙ্গারামপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্য সহকারী ডা:নুরুল আমীন তালুকদার, আমীরপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা:মোফাজ্জেল হোসেন ও বালিয়াডাঙ্গার শচীন্দ্রনাথ শীল জানান, তাদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনো আসবাবপত্র প্রদান করা হয়নি। পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের গুদাম রক্ষক সাজ্জাদ হোসেন জানান, ২০১১-১২ অর্থ বছরের কোনো আসবাবপত্র গুদামেও রাখা হয়নি।
গুরুপ্রসাদ ঘোষ ইত্তেফাককে বলেন, সরকারী বা রাজস্ব খাত থেকে যে বরাদ্দ পেয়েছি তার ‘যথাযথ’ ব্যবহার করা হবে। টাকা তুলে নিয়েছেন কিন্তু ফার্নিচার ক্রয় করেননি এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, এখন না করলেও পরে ক্রয় করা হবে। তিনি কারোর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, অফিস সহকারী মিজানুরকে বদলি করায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে এসব অভিযোগ তুলেছে।
