আশির দশকের জনবল কাঠামো দিয়ে চলছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে দেশে বিমানবন্দরের সংখ্যা বেড়েছে। বহুগুণে বেড়েছে বিমান উঠানামা। কিন্তু বিমানবন্দরগুলো পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত এ সংস্থাটির লোকবল বাড়েনি। কাজ চালিয়ে নেয়ার জন্য এডহক ভিত্তিতে লোক নিয়োগ দেয়ায় অত্যন্ত স্পর্শকাতর এ জায়গায় নিরাপত্তাও হুমকির মধ্যে পড়েছে। সিভিল এভিয়েশনের পক্ষ থেকে নতুন জনবল কাঠামো তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও এখনো পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির জনবল কাঠামো তৈরি করার জন্য ১৯৮১ সালে সরকার এনাম কমিশন গঠন করে। কমিশনের রিপোর্টে সিভিল এভিয়েশনের বিভিন্ন পদে মোট তিন হাজার ৭৫৯টি পদের সুপারিশ করা হয়। সে অনুযায়ী সংস্থাটির বিভিন্ন পদে পদায়ন করা হয়। এর পর থেকে সিভিল এভিয়েশনে আর কোন স্থায়ী নিয়োগ হয়নি। জনবল স্বল্পতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ সংস্থাটি চলে আসলেও এতে নতুন জনবল কাঠামো তৈরির ব্যাপারে কোন সরকারই কাজ করেনি।
সূত্র জানায়, বর্তমানে সদর দপ্তরসহ দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর মিলিয়ে সিভিল এভিয়েশনের ২১টি অফিস ও ইউনিট রয়েছে। বিমানবন্দরগুলোতে বিমান উঠানামা যেমন বেড়েছে, সাথে সাথে বিমানবন্দরের সংখ্যাও বেড়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে। এসব বিবেচনায় গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সিভিল এভিয়েশনের জন্য মোট ১৩ হাজার ৭৭৬ জনের একটি জনবল কাঠামো তৈরি করা হয়। এ কাঠামো বিমান মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে বিপত্তি বাধে। এ নিয়ে অর্থ ও বিমান মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একপ্রকার রশি টানাটানি শুরু হয়। একপর্যায়ে সিভিল এভিয়েশন কাঠামোটি পুনর্মূল্যায়ন করতে সম্মত হয়। গত ১৩ জানুয়ারি সিভিল এভিয়েশন ১০ হাজার ৬৯৪ জনের একটি জনবল কাঠামো বিমান মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, জনবল কাঠামোর সংশোধিত প্রস্তাবটি যাচাই করা হচ্ছে। শিগগিরই প্রস্তাবটি অনুমোদন দেয়া হবে।
এদিকে দৈনিক ভিত্তিতে কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে বছরের পর বছর সিভিল এভিয়েশনের দৈনন্দিন কাজকর্ম চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। এতে দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সংঘটিত কয়েকটি সোনা চোরাচালানের সাথে সিভিল এভিয়েশনের অস্থায়ী কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সোনা চোরাচালানের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সিকিউরিটি সুপারভাইজার খোন্দকার নাজিমউদ্দিন, নিরাপত্তা কর্মী কবির আহমেদ এবং নিরাপত্তা অপারেটর রেখা পারভিনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে সিভিল এভিয়েশনের সদর দপ্তর, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সিভিল এভিয়েশনের অফিসগুলোতে ব্যাপকভাবে এডহক ভিত্তিতে লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। শুধু সদর দপ্তর এবং শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৭৬১ জন অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করছে। সারাদেশে সিভিল এভিয়েশনের অস্থায়ী তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর সংখ্যা ১৪শ। অস্থায়ী নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা ৩৬৬ জন।
সিভিল এভিয়েশনের সাথে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দেশের বিমানবন্দরগুলোকে সরকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসাবে ঘোষণা করেছে। পরিবর্তিত বিশ্বে এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চোরাচালানসহ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিভিন্ন ঘটনা বিমানবন্দরের মাধ্যমেই ঘটে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি ব্যতিক্রম। এডহক ভিত্তিতে কাজ চালিয়ে নেয়ায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে, সাথে সাথে সিভিল এভিয়েশনকে এ কাজের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। সংস্থার এক হিসাবে দেখা যায়, বর্তমানে এডহক ভিত্তিতে নিযুক্ত কর্মচারীদেরকে দৈনিক চার লাখ টাকা করে পরিশোধ করা হচ্ছে।
