বিশ্বের প্রায় সব দেশেই নানা ধরনের আন্দোলন সংগ্রাম কিংবা নানা বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে রাজপথে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। আর এ কাজে নানা ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি বিশ্বের অনেকে দেশে পুলিশের সহযোগি হিসেবে থাকে প্রশিক্ষিত কুকুরের দলও। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে, নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা আর জনরোষ থেকে পুলিশ সদস্যদের বাঁচাতে যতো রকমের ব্যবস্থা থাকে তার সিঁকিভাগও থাকে না একই কাজে পুলিশকে সাহায্য করতে আসা কুকুরদের জন্য। যদিও দেরিতে হলেও এবার কুকুরদের দুঃখ কিছুটা হলেও ঘোচানোর উদ্যোগ নিয়েছেন জার্মানির পুলিশ বিভাগের কর্তাব্যক্তিরা। তারা জানিয়েছেন, রায়টের সময় রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা কাঁচের টুকরো বা এ ধরনের কোনো ধারালো বস্তুর আঘাতে যেন কুকুরের পা ক্ষত-বিক্ষত না হয় সেজন্য তারা ইতোমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে কুকুরের পায়ে বুট পড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। পাতলা কাপড়ের তৈরি এবং ধারালো আঘাত প্রতিরোধক এই জুতা পায়ে থাকলে কুকুরের পা কাঁচ বা ধারালো কোনো কিছুর আঘাতে আর জখম হবে না। আর পরীক্ষামূলকভাবে পুলিশ বিভাগের ১২টি কুকুরের পায়ে পড়ানো বুট পায়ে দিয়ে কুকুরগুলোও স্বাচ্ছন্দে বিচরণ করতে পারছে। এ প্রসঙ্গে ছবির চার বছরের জার্মান শেফার্ড রিকো এবং অন্যান্য কুকুরের দেখভালের দায়িত্বে থাকা থমাস শাটল বলেন, ‘কুকুরদের জন্য এটি মোটেই ফ্যাশনেবল কোনো উদ্যোগ নয়, বরং এটি সম্পূর্ণরূপেই করা হয়েছে তাদের পায়ের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে। কুকুরের পায়ের থাবা এমনিতেই খুব সংবেদনশীল এবং এ অংশে একবার কাঁচের টুকরোর মতো কোনো কিছুর আঘাত লাগলে কমপক্ষে ছয়মাস কুকুরটিকে বিশ্রাম দিতে হয়।’ শাটল আরও জানান, কুকুরদের জন্য এই জুতা প্রস্তুত করার চাইতেও বেশি কঠিন কাজ ছিল তাদেরকে এটির সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া। কেননা প্রথম দিকে এটিকে বাড়তি ঝামেলা মনে করে সব কুকুরই তাদের পায়ের জুতাকে দাঁত দিয়ে কামড়ে খুলে ফেলতে চাইত। তবে দুই সপ্তাহের নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে এখন কুকুরগুলোকে প্রায় পুরোপুরিই জুতার সাথে মানিয়ে নেয়ার কৌশল শিখিয়ে ফেলেছেন থমাস শাটল। আর পরীক্ষামূলক এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতেই আগামীতে রায়ট বা এ ধরনের পরিস্থিতিতে পুলিশের সাথে থাকা সকল কুকুরের জন্য বুটের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে জার্মানির পুলিশ বিভাগ।
