প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝরেপড়া ছাত্রী আদিবাসি কিশোরী মালাবতী (১৪) অসুস্থ মায়ের সংসারের হাল ধরেছে। ছোট বোন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী প্রতিদিন কৃষি শ্রমিকের কাজ করে আয় করে ১৫০টাকা থেকে ২শ’ টাকা। এ টাকাতেই টানাপড়েনের মাঝে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সংসার।
মালাবতীর বাড়ি তাড়াশ উপজেলার আদিবাসি অধ্যুষিত এলাকার জোসাই গ্রামে। ১০বছর আগে তার বাবা ভূমিহীন কোকন সিং মারা যায়। তৃতীয় শ্রেণি পাস করার পর সে সময় পাঠ চুকিয়ে তার বড় বোন ও মায়ের সাথে মাঠে মাঠে কাজ শুরু করে। মা-মেয়ে আয় করে সংসার চালাত এবং বড় বোনের বিয়ের খরচের টাকা জমা করত। মালাবতী বড় হয়ে পড়াশোনা শুরু করে। মাত্র ১০মিনিটের পথ পায়ে হেঁটে গুড়পিপুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার বোনের মতই পড়ত। মা আর বড় বোনের আশা ছিল মালাবতী এসএসসি পরীক্ষা দেবে। কিন্তু তা আর সম্ভব হলো না। মালাবতী এ প্রতিবেদককে জানায়, বোনের বিয়ের কিছুদিন পর মা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এভাবে ১বছর কেটে যায়। পঞ্চম শ্রেণিতে উঠার পরই সে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হয়। তার ভাষায় গরীবের সংসারে লেখাপড়া সাজে না। স্কুল ত্যাগের পর ২বছর কেটে গেছে। এখন সে পুরোদস্তুর কৃষি শ্রমিক। বড় বোনের বিয়ের টাকা জমাতে পারলেও তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বলে মালাবতী বিষণ্ন্ন মনে জানায়। এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপ হয় বিনসাড়া গ্রামের পূর্ব মাঠে। সে আরও জানায়, স্কুল ত্যাগ করে প্রথম দিন কাজে যেতে সবার অলক্ষ্যে খুব কেঁদেছিল।
