কক্সবাজার পৌরসভার ১৪৭ বছর

আয়তন চার গুণ বাড়লেও বাড়েনি নাগরিক সুবিধা

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৫৬
কক্সবাজার সদরের ২ দশমিক ৬৩ বর্গমাইল এলাকা নিয়ে ১৮৬৯ সালে গঠিত হয় কক্সবাজার মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন। পরবর্তীতে টাউন কমিটি, মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এবং সর্বশেষ পৌরসভায় রূপান্তরিত হয় কক্সবাজার। আর মাত্র ৩ বছর পর সার্ধশত জন্মবার্ষিকী পালন করবে পৌরবাসী। কিন্তু প্রায় দেড়শত বছর আগের প্রতিষ্ঠাকালীন কাঠামো ও এলাকা নিয়ে এখনও চলছে কক্সবাজার পৌরসভা। জানা যায়, কক্সবাজার পৌরসভা প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৩৯ বছর পর ২০০৫ সালে পৌর এলাকা বর্ধিত করা হয়। এর বর্তমান আয়তন ৩২ দশমিক ৯০ বর্গকিলোমিটার। ২০০৫ সালে কক্সবাজার পৌরসভার সীমানা ৪ গুণ বর্ধিত করা হলেও ওয়ার্ড বাড়ানো হয় মাত্র ৪টি। তবে আগের ওয়ার্ডসমূহ পুনর্ির্বন্যাস করা হয়। বর্তমান সীমানা অনুযায়ী ১নং, ২নং, ৫নং, ৬নং ও ১২নং ওয়ার্ড পৌরসভার নতুন এলাকা। আবার ৩নং, ৭নং ও ৯নং ওয়ার্ডের আংশিক এলাকা পৌরসভায় নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পৌরসভার আগের এলাকা নিয়ে সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০২ সালের ১৫ জুন। বর্ধিত এলাকা নিয়ে গত ২ বছর আগে ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এখন শপথ নিতে না পারায় ১৪৭ বছর আগের এলাকা ও কাঠামো নিয়ে এখনও চলছে কক্সবাজার পৌরসভা। ফলে বর্ধিত এলাকার লোকজন পড়েছে মারাত্মক ভোগান্তিতে। কক্সবাজার পৌরবাসী বাসিন্দারা জানান, বর্ধিত এলাকার বাসিন্দারা এখন উন্নয়নসহ সকল প্রকার নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। স্কুলে শিশু ভর্তি করানোর জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদ, নাগরিকত্ব সনদসহ প্রয়োজনীয় কাজে পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলরের সনদ নিতে হয়। কিন্তু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথ না হওয়ায় বর্ধিত এলাকার পৌরবাসী এসব নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। জানা যায়, কক্সবাজার পৌরসভার প্রথম মনোনীত চেয়ারম্যান ছিলেন অ্যাডভোকেট মেহের আলী এবং নির্বাচিত চেয়ারম্যান একেএম মোজাম্মেল হক। এছাড়া সর্বশেষ নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন নূরুল আবছার। কিন্তু ২০০৩ সালে তার ২ বছরের সাজা হলে তাকে পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়। সেই সময় থেকে গত ১০ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত দিয়েই চলছে কক্সবাজার পৌরসভা।