মামলা পরিচালনায় রাষ্ট্রপক্ষে পুলিশ অনুপস্থিত

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:১৫
মেহেরপুর আমলী আদালতে মামলা পরিচালনায় প্রায়দিনই রাষ্ট্রপক্ষে পুলিশের কোন উপ-পরিদর্শক উপস্থিত থাকেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে মামলার নথি উপস্থাপনসহ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে সরকার পক্ষে কোন তথ্য উপস্থাপন বা জামিনে বাধা দেয়া হয় না। চলমান এই পরিস্থিতির কারণে বুধবার মেহেরপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম বৈজয়ন্ত বিশ্বাস এক আদেশে মেহেরপুর পুলিশ সুপার ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর আদেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে মেহেরপুর পুলিশ সুপার জানান, আমলী আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব এপিপিদের। পুলিশের নই। তাছাড়া আদালতে মামলা পরিচালনাকারী কোর্ট ইন্সপেক্টরদের (সিএসআই) সবাই ছুটিতে। তাই আদালতে কেউ ছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে আদালত কারণ দর্শালে তিনি তার জবাব দেবেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, জিআর-১৬/১৩ মামলাটি প্রায় ৭ লক্ষ টাকার একটি চুরির ঘটনা। আদালতে আসামির জামিন ও রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য ছিল। সে অনুযায়ী আসামিপক্ষ থেকে কৌঁসুলি শুনানিতে অংশ নিলেও আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে নিয়োগকৃত পুলিশের কোন সিএসআই উপস্থিত ছিলেন না। ফলে আসামির জামিনে বাধা ও রিমান্ড শুনানির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষে কেউ অংশ নেননি। এমনকি রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আদালতে মামলার নথি পর্যন্ত উপস্থাপন করা হয়নি। অথচ আদালতের বিচারিক কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন ও জনস্বার্থ সংরক্ষণের জন্য আদালতে সিএসআই নিয়োগ করা ও তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার দায়িত্ব পুলিশ সুপারের। তাই আদালত ৩ কার্যদিবসের মধ্যে মেহেরপুর পুলিশ সুপার ও মামলার নথি উপস্থাপন না করায় তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। আদালত সূত্র জানায়, প্রায় দিনই আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে কোন পুলিশ কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। ফলে, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে কোন সন্ত্রাসী অপরাধমূলক মামলায় জোরালো পদক্ষেপ নেয়া হয় না। এতে অনেক সন্ত্রাসী সহজেই আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে যায়। যা আইন-শৃঙ্খলা ও জনস্বার্থ রক্ষায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ব্যাপারে মেহেরপুর পুলিশ সুপার জানান, কোর্ট ইন্সপেক্টর পদে দীর্ঘদিন কোন কর্মচারী নেই। আমলী আদালতে মামলার পরিচালনার জন্য নিয়োগকৃত পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক সবাই ছুটিতে। তাই আদালতে কারো থাকা সম্ভব হয়নি। তবে আমলী আদালতে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব সরকারি আদেশ অনুযায়ী এপিপিদের। পুলিশের নয়।