কমলগঞ্জ উপজেলার নদী ও ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের হিড়িক শুরু হয়েছে। লাঘাটা ও আলীনগর ইউনিয়নের সুনছড়া কালভার্ট সেতুর নিচে খনন করে দেদারসে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে সেতুর ভিত দুর্বল হয়ে পড়ায় সেটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন আগে সুনছড়া থেকে বালু বহনকারী একটি ট্রাক স্থানীয় জনতার ধাওয়া খেয়ে পালাতে গেলে ট্রাকের ধাক্কায় কালভার্ট সেতুর রেলিং ভেঙ্গে পড়ে। গত কয়েক বছর ধরেই এখান থেকে অবৈধভাবে হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলনের এই অপকর্মটি চালিয়ে আসছে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। আর সরকার হারাচ্ছে প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব। বিপর্যস্ত হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ।
সরেজমিন লাঘাটা ও সুনছড়ার ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্ট সেতু এলাকা ঘুরে ও স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ থেকে জানা যায়, লাঘাটা ও সুনছড়া এলাকার বালু মহাল উপজেলা ভূমি অফিস থেকে কাউকে বন্দোবস্ত দেয়া হয়নি। স্থানীয় লোকজন নিজেদের প্রয়োজনে কিছু কিছু বালু উত্তোলন করলেও বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ও তার অঙ্গ সংগঠনের কতিপয় নেতার পরিচয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল লাঘাটা নদী ও সুনছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে অন্যত্র বিক্রি করছেন। সুনছড়ায় অবৈধভাবে উত্তোলনকারীদের নিয়োজিত বালু শ্রমিকরা কালভার্ট সেতুর পিলারের চারদিক খনন করে বালু উত্তোলন করছে। ফলে কালভার্ট সেতুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আলীনগর ইউনিয়নের স্থানীয় ওয়ার্ড ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, ইতিপূর্বে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দেয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা তার বিরুদ্ধে উল্টো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করে। তিনি আরও বলেন, গত ১৩ জানুয়ারি রাতে সুনছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ট্রাকযোগে পাচারের সময় গ্রামবাসী ট্রাকটি ধাওয়া করে। দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাকের ধাক্কায় কালভার্ট সেতুর রেলিং-এর একাংশ ভেঙ্গে পড়ে।
সুনছড়ার স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, পরিবহন ব্যয়সহ গড়ে বারশ’ থেকে পনেরশ’ টাকায় এক ট্রাক বালু বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন সুনছড়া থেকে গড়ে ৮ থেকে ১০ ট্রাক বালু পাচার করা হয়। এ হিসাবে বিগত চার বছরে সুনছড়া থেকে কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বালু অবৈধভাবে বিক্রি করা হয়। এর ফলে সরকার হারিয়েছে প্রচুর পরিমাণে রাজস্ব এবং বিপর্যস্ত হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। কমলগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার ইভং হাল সিং বলেন, সুনছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে সোমবার সরেজমিন তদন্ত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা হলে নির্বাহী কর্মকর্তাই পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
