মহান মানবতাবাদী নির্মল সেন

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৩
‘জন্মিলে মরিতে হইবে’—প্রকৃতির এই চিরন্তন সত্যটির মাঝখানে যেটুকু সময় সেটুকুই আমাদের যাপিত জীবন। জীবনযাপন জগত্-সংসারের স্বাভাবিক নিয়ম যা আমরা কেউ উপেক্ষা করতে পারি না। এই জীবন আমরা নানানজনে নানানভাবে যাপন করি কিন্তু ক’জন পারি জীবনের সঠিক ব্যবহার করতে? নিশ্চয়ই বেশিরভাগ মানুষই পারি না। কারণ জীবন-মৃত্যুর মাঝখানের যে হঠাত্ আলোর ঝলকানি সেটা আমাদের অনেকেরই মানসলোকে সঠিক সময়ে ঝলকায় না। তাই এই অমূল্য জীবনের মূল্য আমরা অনেকেই বুঝি না। আমরা বেশিরভাগ মানুষই কেবল আত্মসুখটাকেই জীবনের অভীষ্ট লক্ষ্য বলে মনে করি। তাই কেবল সুখ নামক সোনার হরিণটার পেছনে সারাটা জীবন ঘুরে ঘুরে কেঁদে মরি। কবিগুরুর ভাষায় “এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম, প্রেম মেলে না, শুধু সুখ চলে যায়, এমনি মায়ার ছলনা”। কিন্তু জগতে এমনও মানুষ আছেন এবং ছিলেন যে মানুষগুলো আত্মসুখের কথা ভুলে চিরকাল পরের সুখেই নিজের সুখ-শান্তি খুঁজে পান তেমনি একজন মহত্প্রাণ মানুষ ছিলেন আমাদের সর্বজন শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক, সাহিত্যিক, রাজনীতিক, কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষের মুক্তি সংগ্রামের মূর্তপ্রতীক মহান ত্যাগী কমরেড নির্মল সেন। তার জ্বলন্ত উদাহরণ দেশ বিভাগের সময় তাঁর পুরো পরিবার যখন ভারতে চলে যায় তখন এই জন্মভূমিকে ছেড়ে তিনি যাননি, যেতে পারেননি। কারণ এ দেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর হূদয়ের বন্ধন তিনি ছিন্ন করতে চাননি। সারাটা জীবন সমস্ত মায়ার বন্ধন উপক্ষো করে শুধু মানব কল্যাণকেই জীবনের মহান ব্রত বলে মনে করেছেন। এমনকি মৃত্যুর পরেও তার নশ্বর দেহটা দেশ ও দশের কল্যাণে উত্সর্গ করে গেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের চিকিত্সা ও গবেষণার কাজে। নির্মল সেন ভেবেছিলেন—“সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালবাসিলাম, সে কখনো করে না বঞ্চনা।” কিন্তু আমাদের এই রাষ্ট্রের কাছ থেকে বঞ্চনা ছাড়া আর কী পেয়েছেন তিনি? তাঁর মতো মহান মানুষকে রাষ্ট্র সম্মান করলে মনে হয় আমাদের পুরো রাষ্ট্রেরই সম্মান বৃদ্ধি পেতো। কিন্তু আমরা তাঁর প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে কার্পণ্য করেছি। এতে করে নির্মল সেনরা ছোট হন না বরং আমাদের জ্ঞান-গরিমার দীনতাই প্রকাশ পায়। যাই হোক, আর কোনো বড় মাপের মানুষের ক্ষেত্রে এমন অবহেলা-অসম্মান যেন না হয়। এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। তা না হলে ভবিষ্যত্ প্রজন্ম আমাদের ধিক্কার জানাবে। আমাদের বিশ্বাস নির্মল সেনের জীবন ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমাদের তরুণ প্রজন্ম মানবতার জন্য জীবন উত্সর্গ করবে। তবেই নির্মল সেনের আত্মত্যাগের যথার্থ সম্মান আমরা দিতে পারবো। টাঙ্গাইল