টাকার বিড়ম্বনা

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৪
টাকা আয় করা যত কঠিন ব্যয় করা তত কঠিন নয়। বর্তমান বাজারে নতুন-পুরাতন মিলে যে নোটগুলো চালু আছে সে নোটগুলো ব্যয় করাও আজ জটিল ও কঠিন হয়ে পড়েছে। নোটগুলো কেন এমন করা হয়েছে তা বোধগম্য না হলেও এর সপক্ষে কোনো যুক্তি জনসাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। কারণ একই নোট দু’তিন রকম, আবার দু’তিন প্রকারের নোট একই রকম, বিশেষ করে একই বর্ণের হওয়ার কারণে নোটগুলো নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। এই বিব্রতকর অবস্থার কারণে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। আকার ও বর্ণে হযবরল অবস্থার কারণে নিরক্ষররা তো বটেই অক্ষরজ্ঞানসম্পন্নদেরও নোটগুলো নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ক্ষুদ্র পরিসরে জরিপে দেখা গেছে—এ বিষয়ে প্রতিকার প্রত্যাশীর সংখ্যা শতভাগ। বিশেষ করে ২০ টাকা, ১০০ টাকা ও ৫০০ টাকার নতুন নোট একই বর্ণের হওয়ায় একটার স্থলে আরেকটা নোট লেনদেন হয়ে যাচ্ছে। এতে করে ভুলবশত ২০ টাকার স্থলে ১০০ বা ৫০০ টাকা অথবা ৫০০ টাকার স্থলে ১০০ বা ২০ টাকা লেনদেনের ঘটনা হরহামেশা ঘটে চলেছে। এভাবে ২০ টাকার স্থলে ৫০০ টাকা দিয়ে দিলে ক্ষতি হয় ৪৮০ টাকা। আবার ১০০ টাকার স্থলে ৫০০ টাকা লেনদেন হলে ৪০০ টাকার ক্ষতি হয়। জানামতে, গ্রামের এক নিরক্ষর ব্যক্তি ভুল করে ফেরিওয়ালাকে ৫০০ টাকা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সাধারণত একটু তাড়াহুড়া বা একটু ঝাপসা আলোর মধ্যে হলে কিংবা বাসের মধ্যে এ ধরনের ভুল বেশি হচ্ছে। ফলে লেনদেনের ক্ষেত্রে জটিলতা বাড়ছে ও বাক-বিতণ্ডার সৃষ্টি হচ্ছে। যে কোনো সময় আমরা যে কেউ নোটগুলো নিয়ে এই পরিস্থিতির শিকার হতে পারি, যা আমরা কেউই চাই না। কাজেই নতুন নোট বাজারে ছাড়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে কাজ করলে জাতিকে এসব বিড়ম্বনা পোহাতে হতো না। এছাড়া বারবার নোট বদলাতে গেলে নোটের বিভিন্ন উপাদান, সময়, শ্রম, মেধা ও আর্থিক অপচয়ের ফলে জাতীয় অর্থনৈতির ওপর চাপ পড়বে একথা ঠিক, কিন্তু সেজন্য জনসাধারণ এর খেসারত দিতে পারে না। অতএব জনদুর্ভোগ লাঘবের জন্য এ অবস্থার অবসান হওয়া বাঞ্ছনীয়। এজন্য দু’টাকা থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত নোটগুলোর মধ্যে আকার ও বর্ণে বিভিন্নতা থাকতে হবে। আর প্রত্যেক প্রকারের নোটে বঙ্গবন্ধুর ভিন্ন ভিন্ন ছবি ব্যবহার করতে হবে। একই মানের নোট আকারে ছোট-বড় বা কমবেশি করা যাবে না এবং বর্ণের মধ্যেও তারতম্য করা চলবে না। তাহলে একটি নোটের সঙ্গে অন্য মূল্যমানের নোটের কোণায় সাদৃশ্য থাকবে না। এতে খুব সহজেই নোটগুলো চেনা যাবে। নোটের কোণায় কত লেখা আছে তা আর দেখতে হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জাতীয় স্বার্থে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করবে আশা করি। ঢাকা