নদীর গুরুত্ব এবং খনন প্রকল্প

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৪
এক সময় নদীকে কেন্দ্র করে হাট-বাজার বসতো। তার কারণ ছিল নদীপথে পরিবহনের সুবিধা। কিন্তু বর্তমান সময়ে সড়কপথের যতোই উন্নতি করা হোক না কেন নদীপথের স্থান দখল করতে পারেনি। দীর্ঘ কয়েক যুগে নদীপথের দিকে সরকারের দৃষ্টি কম থাকায় বর্তমানে এক্ষেত্রে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। অনেক নদী মরে গেছে। যা বর্তমানে টিকে আছে তাও এখন ভরাট হয়ে সরু খালের দশায় উপনীত হয়েছে। অনেক এলাকায় নদী মরে যাওয়ার কারণে কৃষিকাজের জন্য সেচব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। তাই নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। সরকার নদীকে সচল করার লক্ষ্যে শুধু মেগা প্রকল্প গ্রহণ করছেন। শুধু নদী খনন করলেই চলবে না। নিতে হবে নদীর শাখা-উপশাখা খননের প্রকল্প। কারণ নদীর শাখা-উপশাখা না থাকলে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিরানভূমিতে পরিণত হবে। তাতে করে কৃষক ফসল ফলাতে পারবে না। দেশের জিডিপির বড় অংশই আসে কৃষকের কাছ থেকে। উত্পাদন ভালো হলে দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকে। তাই নদী খননের পাশাপাশি খাল খননেরও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। দেশের তেপ্পান্নটি নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ১২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। একনেকের সভায় ৬৫টি নৌপথের মধ্যে এ পর্যন্ত ২৪টির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তাছাড়া আগে থেকেই ১২টি নৌপথ খনন প্রকল্পের কাজ চলছিল। দেশের নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা নিঃসন্দেহে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এতে দেশের মানুষ উপকারভোগী হবেন তাতে কারো কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু রাষ্ট্রের গাফিলতির দিকে যদি আমরা লক্ষ করি তাহলে বড় প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যত্ নিয়ে আমাদের সংশয় জাগে। সরকার বুড়িগঙ্গার নাব্যতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নিয়েছিলেন বড় প্রকল্প। কিন্তু বুড়িগঙ্গার দিকে তাকালে আমরা কী দেখতে পাই? যে টাকা খরচ হয়েছে তার সিকি ভাগ কাজও হয়নি। তাতে করে বুড়িগঙ্গা খননের টাকা রয়েছে। না,তা রয়নি। ভাগ-বাটোয়ারা করে এ খাতের সবাই নিয়েছেন। তাই বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশ থেকে পলিথিন অপসারণ করে পানির স্বচ্ছতা বয়ে আনার প্রকল্পগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাই সরকার যে ১২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে তার জবাবদিহিতা কার কাছে করবে? রাষ্ট্রের এত বড় প্রকল্পের কাজটি কে বুঝে নেবে? সরকার যে নদী খনন করবেন সে খননকৃত মাটি আশপাশের নিচু জমিতে ফেলে ভরাট করবেন। কিন্তু আমরা দেখি উলটো চিত্র। নদী খনন করে তার পাশেই কয়েক গজের মধ্যে খননকৃত মাটি ফেলার কারণে তা আবার আগের স্থান দখল করে নেয় । মাঝখানে সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্চা যায়। আর তা দেখার যেন কেউ থাকে না। তাই বড় প্রকল্প হাতে নেয়ার আগে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। নদী খনন প্রকল্পের টাকা দুর্নীতি করে আত্মসাত্ করা অত্যন্ত সহজ। তাই এ প্রকল্পে দুর্নীতি বেশি ঘটে থাকে। নদীর মাটি কত ফুট ড্রেজিং করা হয়েছে তা পরে আর পরিমাপ করা যায় না। তাই ইচ্ছামতো বিল করতে সুবিধা এখাতে সবচেয়ে বেশি। দেশের নদী খনন অত্যন্ত জরুরি। তার কারণ আমাদের ২৪ হাজার কিলোমিটার নদীপথের মধ্যে এখন মাত্র ৫ হাজার কিলোমিটার নদীপথ আছে। বাকি ১৯ হাজার কিলোমিটার নদীপথ ভরাট হয়ে পড়ায় তাতে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার ইতিমধ্যে ৮০০ কিলোমিটার নদীপথ খননের কাজ হাতে নিয়েছিলেন। এখন বড় প্রকল্পগুলো হাতে নেয়ায় নদীর নাব্যতা ফিরে পাবে এটা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক দিক। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নদীপথের বিকল্প কিছু হতে পারে না। যোগাযোগের ক্ষেত্রে নদীপথ অধিকতর সহজ এবং নিরাপদ। তাই রাষ্ট্রের এ প্রকল্পগুলো যাতে করে দেশের রাঘব-বোয়ালরা কাজ না করেই তাদের পেটে প্রকল্পের টাকা ঢুকে না যায় সেটা আগে নিশ্চিত করা জরুরি। মুন্সীগঞ্জ