অস্ট্রেলিয়াকে কমনওয়েলথ ব্যাংক সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে লজ্জায় ডোবালো সফরকারী শ্রীলংকা দল। এর ফলে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল লংকানরা। সফরকারী দলও অবশ্য ভালই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। তবে ৩০ ওভার হাতে রেখে ছয় উইকেট হারিয়ে তারা ৭৫ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে।
স্বাগতিক দলের সবচেয়ে সফল বোলার পেসার মিশেল জনসন তিন ওভার বোলিং করে মাত্র ১১ রান নিয়েছেন ৩ উইকেটে। তবে স্বাগতিকরা তিনটি ক্যাচ মিস এবং একটি রান করতে ব্যর্থ না হলে এত কম রান নিয়েও সত্যিই ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছিল। এত স্বল্প রানের বিরুদ্ধে জয়লাভ করতেও শেষ পর্যন্ত কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়ে যায় সফরকারীরা।
ইনিংসের প্রথম ওভারেই পেসার ক্লিন্ট ম্যাককের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ডেভিড ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ১ রানে সাজঘরে ফেরেন লংকান অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনে।
গত রবিবার এডিলেডে প্রথম সেঞ্চুরি পাওয়া লাহিরু থিরিমান্নে জনসনের বলে ওয়ার্নারের হাতে ধরা পড়ার আগে করেন মাত্র ৭ রান। জনসনের পরের বলেই মিশেল স্টার্কের হাতে ধরা এ্যাঙ্গেলো ম্যাথুজ রানের খাতা খোলার আগেই প্যাভিলিয়নমুখী হন।
উপুল থারাঙ্গা ১২ রান করে স্টার্কের বলে ক্লার্ককে ক্যাচ দেন। পরক্ষণে একই বোলারের শিকার হন ২ রান করা জীবন মেন্ডিজ। এমন বোলিং তোপের মুখেও বদলি উইকেটরক্ষক হিসেবে মাঠে নামা কুশল পেরেরা দারুণ দৃঢ়তা দেখিয়ে চা বিরতির পরই বাউন্ডারী হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। তরুণ তুর্কি পেরেরা ২২ রানে অপরাজিত থাকে। ড্যাশিং ওপেনার তিলকরত্নে দিলশানও সমান ২২ রান করে জনসনের শিকার হলে শ্রীলংকার স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৩৩ রান। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হওয়া নুয়ান কুলাসেকারা ২২ রানে ৫ উইকেট শিকার করে লংকানদের জয়টা হাতের কাছে এনে দেন। এছাড়া ল্যাসিথ মালিঙ্গা ১৪ রানে নেন ৩ উইকেট।
প্রকৃত অর্থেই ‘একটি ভাল উইকেট’ আখ্যা দিয়ে অসি অধিনায়ক ক্লার্ক টস জয় করে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে পুরোপুরিই ব্যর্থ হয়েছে তার দল। একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে এর আগে অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড ছিল ১৯৭৭ সালে এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৭০ রানের। লজ্জাজনক একই রানের আরেকটি স্কোর ছিল ১৯৮৬ সালে এডিলেডে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। এক পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ছিল ৪০-৯। কিন্তু সর্বনিম্ন রানের নতুন রেকর্ডের হাত থেকে রেহাই দেন বোলার স্টার্ক। ইনিংসে দুই অংকের ঘরে পৌঁছা একমাত্র খেলোয়াড় স্টার্ক ২২ রানে অপরাজিত থাকেন। অধিনায়ক ক্লার্ক স্বীকার করেন, ‘সত্যি এটা একটা ভয়ংকর দিন। আমাদের ব্যাটিং পারফরমেন্স ছিল খুবই নিম্নমানের। সত্যিই আমরা হতাশ।’
ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ম্যাথুজের বলে মিড অফে শামিন্দা এরাঙ্গার হাতে ধরা পড়ে মাত্র ৪ রানেই প্রথম উইকেট হিসেবে মাঠ ছাড়েন ওয়ার্নার। দুর্দান্ত কুলাসেকারার বলে জয়াবর্ধনের হাতে ধরা পড়ে দ্বিতীয় উইকেট হিসেবে ফিলিপ হিউজ মাত্র ৩ রানেই সাজঘরে ফিরতে বাধ্য হন। ব্যক্তিগত ৯ রানে কুলাসেকারার বলে সরাসরি বোল্ড আউট হন ক্লার্ক। ডেভিড হাসি বাউন্ডারী দিয়ে শুরু করলেও ঐ এক বাউন্ডারীর পরই শিকার হন কুলাসেকেরার। অষ্টম ওভারে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর দাঁড়ায় ২১-৩। এরপর আবারো কুলাসেকারার আঘাতে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন বেইলি। তিন বছর পর দলে ফেরা মোইসেস হেনরিকস ২ রানে কুলাসেকারার শিকার হলে অসিদের স্কোর দাঁড়ায় ৬-৩০। অতিদ্রুত জনসন, ম্যাথু ওয়াডে এবং ম্যাককের তিন উইকেট শিকার করেন মালিঙ্গা। ২৮ বলে ২২ রান করে স্টার্ক প্রমাণ করেন যে এ উইকেটে ব্যাটিং করা অসম্ভব ছিলো না। এরাঙ্গার বলে জেভিয়ার ডোহার্তি আউট হলে শেষ হয়ে যায় অসি ইনিংস। কোন অভিযোগ দাঁড় করাতে অস্বীকার করেন ক্লার্ক। তিনি বলেন, ‘উইকেট ভালই ছিল বলে আমি মনে করি। উইকেটে সব সময়ই কিছু পেস ও বাউন্স ছিল।’ ‘আমাদের কোন অভিযোগ নেই। আমাদের অবস্থার উন্নতি করতে আমরা দু’দিন সময় পাচ্ছি। এটা খুবই কঠিন হবে। লংকানরা আত্মবিশ্বাসে ভরপুর।’
রবিবার সিডনিতে সিরিজের চতুর্থ এবং বুধবার হোবাটের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
স্কোর কার্ড :
অস্ট্রেলিয়া ইনিংস :
ডি. ওয়ার্নার ক এরাঙ্গা ব ম্যাথুস ৪
পি হিউজ ক জয়াবর্ধনে ব কুলাসেকারা ৩
এম ক্লার্ক ব কুলাসেকারা ৯
ডি হাসি ক কে পেরেরা ব কুলাসেকারা ৪
জি বেইলি এলবিডব্লি¬উ কুলাসেকারা ০
এম ওয়াডে ক দিলশান ব মালিঙ্গা ৮
এম হেনরিকস ব কুলাসেকারা ২
এম জনসন ব মালিঙ্গা ২
এম স্ট্রার্ক নটআউট ২২
সি ম্যাককে ক কে পেরেরা ব মালিঙ্গা ০
জে ডোহার্তি ক মেন্ডিজ ব এরেঙ্গা ১৫
অতিরিক্ত (লেবা-২, ও-৩) ৫
মোট (অল আউট, ২৬.৪ ওভার) ৭৪
উইকেট পতন : ১-৪ (ওয়ার্নার), ২-১৩ (হিউজ), ৩-২১ (হাসি), ৪-১ (বেইলি), ৫-২৮ (ক্লার্ক), ৬-৩০ (হেনরিকুইজ), ৭-৩৫ (জনসন), ৮-৩৮ (ওয়াডে), ৯-৪০ (ম্যাককে)।
বোলিং : ম্যাথুজ ৪-০-১০-১, কুলাসেকারা ১০-২-২২-৫, মালিঙ্গা ৭-২-১৪-৩, টি পেরেরাস ৩-০-১৪-০, এরেঙ্গা ২.৪-০-১২-১।
শ্রীলংকা ইনিংস :
এম জয়াবর্ধনে ক ওয়ার্নার ব ম্যাককে ১
টি দিলশান ক ক্লার্ক ব জনসন ২২
এ থিরিমান্নে ক ওয়ার্নার ব জনসন ৭
কে পেরেরা নট আউট ২২
এ ম্যাথুজ ক স্টার্ক ব জনসন ০
ইউ থারাঙ্গা ক ক্লার্ক ব স্ট্রার্ক ১২
জে মেন্ডিজ ক ম্যাককে ব স্ট্রার্ক ২
টি পেরেরা নট আউট ৪
অতিরিক্ত (লেবা-১, নোব-১, ও-৩) ৫
মোট (ছয় উইকেট, ২০ ওভার) ৭৫
উইকেটের পতন : ১-৪, (জয়াবর্ধনে), ২-৩৩ (দিলশান), ৩-৩৭ (থিরিমান্নে), ৪-৩৭ (ম্যাথুজ), ৫-৬৩ (থারাঙ্গা), ৬-৭১ (মেন্ডিজ)।
বোলিং : ম্যাককে ৮-০-৩১-১, স্টার্ক ৭-০-২৫-২, জনসন ৩-০-১১-৩, মোসেস হেনরিকস ২-০-৭-০।
ফল : শ্রীলংকা চার উইকেটে জয়ী।
সিরিজ : শ্রীলংকা পাঁচ ম্যাচ সিরিজ : ২-১
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : নুয়ান কুলাসেকারা (শ্রীলংকা)। - বাসস/এএফপি
