অগোছালো মেলায় পছন্দের স্টল খুঁজে পাওয়ার বিড়ম্বনা

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১১
তৃতীয় সপ্তাহের ছুটির দিনে গতকাল বাণিজ্য মেলায় ছিল প্রচণ্ড ভিড়। লোকজনের সমাগম ছিল সব স্টল ও প্যাভিলিয়নে। সন্ধ্যার পর দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের ভিড়ে তিল ধারণের জায়গা ছিল না মেলার মাঠে। বেচাকেনাও ছিল ভালো। দোকানিরা সারাদিনই ছিলেন ব্যস্ত তাদের পণ্য বিক্রি ও প্রচারণা নিয়ে। ছুটির দিনে গতকাল অনেক দর্শনার্থীই মেলায় প্রথম এসেছেন। অনেকে আবার জীবনে প্রথম এসেছেন মেলায়। এসব দর্শনার্থীর ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে পছন্দের স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলো খুঁজে পেতে। কারণ মেলার স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলো সাজানো-গোছানো না। এগুলো মেলার বিভিন্ন জায়গায় ছড়ানো- ছিটানো। একই পণ্যের স্টল ও প্যাভিলিয়ন খুব কাছাকাছি নেই। মাইকে পণ্য ও পণ্যের উপর মূল্য ছাড়ের প্রচারণা চলছে। কিন্তু দর্শনার্থীরা খুঁজে পাচ্ছেন না ঐসব পণ্যের স্টল ও প্যাভিলিয়ন। পছন্দের স্টল ও প্যাভিলিয়নের ঠিকানা জানতে ছুটে যাচ্ছেন মেলার মানচিত্রের কাছে। সেখানেও প্রচুর ভিড়। অনেকেই সেখান থেকে জানতে ব্যর্থ হচ্ছেন। আবার অনেক সময় মানচিত্রের দায়িত্বরত ব্যক্তিরাও জানাতে সক্ষম হচ্ছেন না প্যাভিলিয়নের অবস্থান। ফলে অনেক দর্শনার্থী নিজেরাই খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে। আবার যারা আগে মেলায় এসেছেন তাদের অসুবিধা কম হচ্ছে। মেলায় ছিনতাইকারী প্রবেশ করায় কারো কাছে সাহস করে জিজ্ঞেস করছেন না কেউ। গতকাল সন্ধ্যার পর মেলার মাঠ থেকে অনেকের মোবাইল, মানিব্যাগ, টাকা এবং মেলা থেকে ক্রয় করা জিনিসপত্র ছিনতাই হয়েছে বলে জানা গেছে। ছুটির দিনগুলোতে লোকজনের ভিড়ে এরকম ঘটনা আগেও ঘটেছে। মোবাইল ছিনতাই হয়েছে শ্রমিক শাহিনের। শাহিন ইত্তেফাককে জানান, মোবাইলটা ডান পকেটে ছিল। কোন সময় যে নিয়ে গেছে কিছুই টের পাইনি। ঘণ্টাখানেক ঘোরাঘুরি করার পর মোবাইলের কথা মনে পড়ে। ডান পকেটে হাত দিয়ে দেখি মোবাইল নেই। পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন কিনা এরূপ প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আরে ভাই এত লোকের মধ্যে পুলিশ কোন জায়গায় পাই। আর পুলিশের কাছে গেলে আবার বাড়তি ঝামেলা। মোবাইল গেছে যাক। মেলার স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলো আরো সাজানো-গোছানো এবং একই পণ্যের স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলো একই জায়গায় থাকবে এমনটাই দাবি দর্শনার্থীদের। পুরান ঢাকা থেকে মেলায় এসেছেন গার্মেন্টস শ্রমিক রাবেয়া আক্তার। তিনি বলেন, “জীবনের প্রথম আজ মেলায় আসলাম। মেলায় ঢুকতে অনেক কষ্ট হয়েছে। আধাঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট পেয়েছি। মেলায় ঢুকে বুঝতে পারছি না কোথায় যাব ? সবদিকেই লোক আর লোক। হামদর্দের প্যাভিলিয়ন খুঁজে পেতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগছে। হামদর্দের প্যাভিলিয়ন থেকে বাবার জন্য ঔষধ ক্রয় করে মেলা থেকে বের হওয়ার জন্য গেট খুঁজতেছি; কিন্তু পাচ্ছি না। লোকজনের কাছে জিজ্ঞেস করলাম কেউ বলে জানি না, আবার কেউ বলে এদিক থেকে ওদিকে যান। এদিক-ওদিক ঘুরতে ঘুরতে রাত হয়ে গেল। অবশেষে অনেক খোঁজাখুঁজি করে ২য় গেট দিয়ে বের হতে পারলাম।” তিনি আরো বলেন, স্টলগুলো যদি সাজানো-গোছানো হতো এমন ভোগান্তি হতো না। একই পণ্যের স্টল ও প্যাভিলিয়ন একই জায়গায় থাকা উচিত। রাস্তাগুলোতেও রয়েছে নানা গলি। একটার মধ্যে ঢুকলে আরেকটা ভুলে যেতে হয়। আবার দুই-চারবার আসলে ঠিক হয়ে যায়। এরকমই নতুন দর্শনার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয় মেলায় এসে। পছন্দের স্টল ও প্যাভিলিয়ন পেতে অনেককেই দীর্ঘ সময় ধরে খুঁজতে হয়। পুরান ঢাকা থেকে মেলায় এসেছেন আফসানা তারিন। তিনি জানান, মেলায় জীবনে প্রথম এসেছেন। কিন্তু মেলায় সবকিছু এলোমেলো মনে হচ্ছে।