দুবাইয়ে লিটন আহমেদ নামে এক বাংলাদেশি যুবককে অপহরণ করে তার পরিবারের কাছে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে আরেকদল প্রবাসী বাংলাদেশি। গত ৭ মাস ধরে অপহরণকারীরা দুবাইয়ের একটি ফ্ল্যাটে লিটনকে (২১) আটকে রেখেছে। মুক্তিপণের টাকা দিতে না পেরে লিটনের পরিবার কুড়িগ্রামের উলিপুর থানা ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালি মডেল থানায় দুইটি মামলা করেছে। সুনামগঞ্জের আমজাদ ওরফে আঞ্জু, জুয়েল মিয়া, সাইদুর রহমান সহ ৭/৮ জন বাংলাদেশি প্রবাসী দুবাইয়ের সালমা সিটি এলাকার একটি ফ্ল্যাটে তাকে আটকে রেখেছেন। তাকে উদ্ধারের জন্য অপহূতের পরিবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের কাছে আবেদন করেছে।
অপহূতের পারিবারিক সূত্র জানায়, কুড়িগ্রামের উলিপুরের ুসাহেবের আলগা গ্রামের লিটন আহমেদ ২০১১ সালের ৪ অক্টোবর শ্রমিক ভিসায় দুবাই যান। দুবাইয়ের সালমা সিটির তাম্বু ডব্লিউমেন্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ৬ মাসের চুক্তিতে শ্রমিক হিসাবে যোগ দেন তিনি। তার বাবা জহির উদ্দিন ৭ বছর আগে সৌদি প্রবাসী। তিন ভাইয়ের মধ্যে লিটন সবার বড়। গত বছরের ২৫ এপ্রিল জুয়েল মিয়া পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি কুড়িগ্রামে লিটনের মা জাহানারা বেগমের মোবাইলে ফোন করে জানায় যে, লিটনকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে ফেরত পেতে হলে সিলেটে সুমন নামে এক ব্যক্তির কাছে ২ লাখ টাকা পাঠাতে হবে। এ ঘটনার এক মাস পর জুয়েল আবারও ফোন করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এ দফায় সিলেটের দুইটি ব্যাংকের হিসাব নম্বর দেয়া হয়। এই হিসাব নম্বরে ৩ লাখ টাকা জমা দিতে বলা হয়। এই টাকা দিতে দেরি হলে লিটনকে যতদিন তাদের কাছে আটকে রাখা হবে তার খাবার খরচ দিতে হবে। জুয়েলের মোবাইল ফোন দিয়েই লিটনকে তার মায়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেয়া হয়। লিটন তার মাকে জানায় যে, তার পাসপোর্ট দুবাইয়ের প্রতিষ্ঠানে রয়েছে। তাকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে তাকে তিন বেলা খাবার দেয়া হচ্ছে।
এ ঘটনার পর লিটনের নানা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে উলিপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় যেসব ব্যাংকের হিসাব নম্বর ও সিলেটের কয়েক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয় সে ব্যাপারে পুলিশ তদন্তে নামে। পুলিশ তদন্ত করে দেখতে পায় সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের গোয়ালিয়া বাজারের সুমন ওরফে নেওয়ার মিয়া নামে এক ব্যক্তির ছোট ভাই জুয়েল দুবাইয়ে লিটনকে অপহরণ করেছে। জুয়েলের সঙ্গে সুনামগঞ্জের লালপুর টোকবাজারের আমজাদ ওরফে আনজু, জগাইরগাঁও গ্রামের সাইদুর রহমান ও আতাউর রহমান, হাছনানগরের আব্দুল মান্নান ওরফে হান্নান চৌধুরী, লালপুরের আজমান আলী, আনছার আলী ও আশরাফ আলী সহযোগিতা করেছেন। দুবাইয়ে তারাই লিটনকে অপহরণ করেছেন। সিলেট ডিবি পুলিশ প্রাথমিকভাবে জুয়েলের বড় ভাই নেওয়ার মিয়াকে গ্রেফতার করে সিলেট কোতয়ালি মডেল থানায় সোপর্দ করে। পুলিশ তদন্ত করে দেখতে পায় যে আতাউর রহমান ও আব্দুল মান্নান চৌধুরীর নামে দুইটি ব্যাংক একাউন্ট সিলেটে রয়েছে। ঐ দুইটি ব্যাংক একাউন্টে মুক্তিপণের টাকা জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ অবস্থায় সপ্তাহে একবার করে লিটন অপহরণকারীদের সাহায্যে বাংলাদেশে তার মা, মামা ও নানা’র সঙ্গে কথা বলছেন। এ ব্যাপারে লিটনের মামা আব্দুল আজিজ জানান, গত বৃহস্পতিবারও লিটনের সঙ্গে কথা বলেছেন। এমনকি অপহরণকারী চক্রের প্রধান জুয়েল তাকে জানিয়েছেন যে, অপহরণের ঘটনায় দুইটি মামলা প্রথমে প্রত্যাহার করতে হবে। এরপর সিলেটে এক ব্যক্তির কাছে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ পৌঁছে দিতে হবে। তারপর লিটনকে ফেরত দেয়া হবে। দিন যতই বাড়বে মুক্তিপণের টাকাও তত বাড়বে বলে জুয়েল হুমকি দিয়েছেন।
