বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে কু-রাজনীতি

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৪
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি বলেছেন, শিক্ষক রাজনীতি বা ছাত্র রাজনীতি- শব্দগুলো সঠিক অর্থ বহন করে না। মূলত এটি শিক্ষক বা ছাত্র আন্দোলন। কিন্তু নানা কারণে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কু-রাজনীতি প্রবেশ করেছে। তিনি বলেন, রাজনীতিতে শিক্ষকদের জড়িয়ে পড়া ক্ষতিকর নয়, তবে কু-রাজনীতির চর্চা হলে তা হবে ক্ষতির কারণ। তিনি এ ব্যাপারে শিক্ষকদের সচেতন থাকার আহবান জানান। প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ সংশোধনের কথাও উল্লেখ করেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের শিক্ষক রাজনীতি: উচ্চশিক্ষায় অর্জন, সংকট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ সময় সমিতির ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘প্রস্তাব’র বিশেষ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন এবং ওয়েবসাইটের নতুন সংস্করণ (www.dujabd.org) উদ্বোধন করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং জনগণের মানস গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকাই প্রধান। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা নিয়ে বিভিন্ন সময় কিছু প্রশ্ন উঠেছে, এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়া জরুরি। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনটি অনেক আগের। চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য তৈরি ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশের কয়েকটি ধারা নিয়ে ইতিমধ্যে কথা উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা এসব বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকারের কাছে প্রস্তাবনা পাঠাতে পারেন। প্রয়োজন হলে কোনো ধারা সংযোজন-বিয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন করা হবে। আর সেই আইন বাস্তবায়নেরও সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে সরকার । নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় চলে গরিবের টাকায়। শিক্ষা লাভ করে বসে থাকলে হবে না। তাদের কথাও চিন্তা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন দলের মধ্যে বিভিন্ন মত থাকতে পারে। কিন্তু সেগুলো নিয়ে লড়াইয়ে নামলে হবে না। সবাইকে সহনশীল হয়ে নৈতিকতা, সততা এবং নিষ্ঠার সাথে শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কু-রাজনীতি ভুলে যেতে হবে। সেমিনারে দেশের শিক্ষাঙ্গনকে অপরাজনীতিমুক্ত রাখার আহবান জানান বিশিষ্টজনেরা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, দেশের সংকটকালীন সময়ে শিক্ষকরাই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে উত্তরণের পথ তৈরি করেছেন। তাই শিক্ষকরা উদার মানসিকতা সম্পন্ন রাজনীতির চর্চা এবং শিক্ষার্থীদের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন-এটিই কাম্য। মূল প্রবন্ধে ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্যই স্বায়ত্তশাসিত হবে; কিন্তু তা তো গণতান্ত্রিক রীতি-পদ্ধতির বাইরে হতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় হবে মুক্তচিন্তার অবাধ প্রাঙ্গণ। কিন্তু প্রশাসন হবে দায়বদ্ধ ও স্বচ্ছ— যা গণতন্ত্রের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। কিন্তু ’৭৩-এর অধ্যাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার ব্যবস্থা রাখেনি। ফলে তথাকথিত স্বায়ত্তশাসনের বর্মের আড়ালে অনেক প্রশ্নবিদ্ধ কাজ হয়। শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পায় এবং তা মেধাকে উপেক্ষা করেই।’৭৩-এর ওই অধ্যাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়-বৈরী প্রমাণিত হয়েছে। অধ্যাদেশটির গণতন্ত্রায়ন প্রয়োজন। কলামিষ্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, সমগ্র দেশ নষ্ট রাজনীতিতে ভরবে আর বিশ্ববিদ্যালয় ভালো থাকবে- এটা ভাবা ভুল। এসব সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষকদের আদর্শের রাজনীতি করতে হবে। । অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, শুধুমাত্র সনদ দেখে শিক্ষক নিয়োগ করলে হবে না। সনদের পাশাপাশি বাইরের যোগ্যতাগুলোও দেখতে হবে। জাতীয় রাজনীতির কলুষতা মুক্ত থেকে শিক্ষকদের জাতি গঠনে মনোযোগী হতে হবে। সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মাহবুব রনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন আহমেদ প্রমুখ।