নগরীতে পিঠা উত্সব

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৭
পিঠার নাম শুনলেই জিভে জল আসে না এমন বাঙালি পাওয়া যাবে না। পিঠা বাঙালির জীবন ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। যদিও শহুরে সংস্কৃতিতে পিঠার অবস্থান খুব নগণ্য। বিভিন্ন স্টলে বার্গার, পিত্জার জোয়ারে হারিয়েই গেছে পিঠা। কিন্তু তারপরও শীত এলেই পিঠার স্মৃতি মনের ভেতরে নাড়া দিয়ে যায় না এমন বাঙালি পাওয়া যাবে না। গতকাল শুক্রবার রাজধানীতে বসেছিল দু’ দুটি পিঠা উত্সব। একটি জাতীয় প্রেসক্লাবে, অপরটি শিল্পকলা একাডেমী চত্বরে । জাতীয় প্রেসক্লাবে পিঠা উত্সব জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকরা আয়োজন করেছিলেন দিনব্যাপী এক পিঠা উত্সবের। সঙ্গে ছিল বাউল গানের আসর। ক্লাবের সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিরা সন্তানদের নিয়ে উপভোগ করেন এ আয়োজন। পিঠা খেয়ে আর গানের সুরে সুরে মেতে ওঠেন সবাই। এ উত্সবে স্থান পেয়েছিল নানা স্বাদের পিঠা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যের অংশ সেসব পিঠা। এখানে ছিল পাটিসাপটা, মালপোয়া, লবঙ্গলতিকা, রসফুল, খির কুলি, চাঁদ পাকান, বিবিখানা, ঝালপোয়া, সূর্যমুখী, পাকান, নকশী পিঠা, গোলাপ ফুল, ভাপা, চিতইসহ আরো নানা ধরনের পিঠা। ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনাক হোসেনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ ও পিঠা উত্সব আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক কাদের গনি চৌধুরী। এছাড়া ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন এ আয়োজনে। অনুষ্ঠানে বাউল সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী খুরশিদ আলম, অনিমা মুক্তি গোমেজ ও শেখ হেমায়েত। শিল্পকলায় শুরু হলো জাতীয় পিঠা উত্সব শিল্পকলা একাডেমীর কফি হাউজ প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে ‘জাতীয় পিঠা উত্সব’। শুক্রবার আট দিনব্যাপী এ উত্সবের উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ উত্সবে একই সঙ্গে চলছে পিঠা প্রদর্শনী ও বিক্রি। উত্সবে প্রতিদিন সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন আয়োজকরা। পিঠা খাওয়ার পাশাপাশি এসব অনুষ্ঠানও উপভোগ করছেন উত্সবে আসা মানুষ। পিঠা উত্সব উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব খন্দকার শাহ আলম বললেন, ২০০৮ সালে যখন দেশে সকল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড স্থবির তখন পিঠা উত্সবের আয়োজন করা হয়। বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় শুরু করা সেই উত্সব পাঁচ বছরে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। এখন দল বেঁধে মানুষ আসে এ উত্সবে। তিনি জানান, শুধু উত্সব আয়োজনই নয়, যাতে মেয়েদের মাঝে পিঠা তৈরির আগ্রহ সৃষ্টি হয় সেজন্য প্রতিবছর পাঁচজন সেরা শিল্পীকে পুরস্কৃত করা হয়। দুই দিনব্যাপী মোজো পিঠা উত্সব ২০১৩ ঢাকা ও খুলনায় শুরু হয়েছে। গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডি ৮ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন রবীন্দ্র সরোবরে ও খুলনা জিয়া হল প্রাঙ্গণে পিঠা উত্সব শুরু হয়। আজ সকাল ৯টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত এ উত্সব চলবে। গত ১১ ও ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম ও সিলেটেও মোজো পিঠা উত্সব অনুষ্ঠিত হয়।