চেয়ারম্যানের পরামর্শ

সাহস, মনোবল আর আত্মবিশ্বাস হারাবেনা

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ১৭:৫০
আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি সারাদেশব্যাপী একযোগে তোমাদের এস.এস.সি পরীক্ষা আরম্ভ হতে যাচ্ছে। পরীক্ষার্থী বন্ধুরা পরীক্ষার শুরুতেই ধীরস্থিরভাবে গোটা প্রশ্ন পড়ার চেষ্টা করবে এবং এর মধ্যে যে সব প্রশ্নের উত্তর তোমার ভালোভাবে লেখার সুযোগ আছে বা জানা আছে সেগুলো প্রথমে লিখবে। পরীক্ষার শুরুটা ভালো হলে হাতের লেখাসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো চমত্কার হয়। কাটাকাটি ও ভুল কম হয়। পরীক্ষায় কারণবশত: কোন কোন প্রশ্নের উত্তর ভালো জানা না থাকলে যেটুকু জানো সেটুকু লেখার চেষ্টা করবে। এক্ষেত্রে সাহস, মনোবল আর আত্মবিশ্বাস হারাবেনা- তবে মনে রাখবে অপ্রাসঙ্গিক ও অতিরঞ্জিত কিংবা বানোয়াট বিষয় হতে সবসময় বিরত থাকবে। এসবের পুনরাবৃত্তি ঘটলে পরীক্ষক তোমার উপর অসন্তুষ্ট হতে পারেন। বিরক্তভাব আসতে পারে। মোট কথা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর যেন প্রাসঙ্গিক ও যথার্থ হয়। পরীক্ষার শেষ পাঁচ/দশ মিনিট মনোযোগ সহকারে উত্তরপত্রের কভার অংশসহ ভিতরের নম্বরসহ সবকিছু রিভিশন দিবে। পরীক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত কার্যক্রমকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করবে। এব্যাপারে খুব বেশি উদ্বিগ্ন হবার বা চিন্তিত হবার কিছু নেই। ঘুমানো-খাওয়া-দাওয়া, পড়াশুনা সব কিছুর মধ্যে স্বাভাবিকতা বজায় রাখবে। অভিভাবকদের বিশেষ করে মা-বাবা ও নিকটতম আত্মীয়-স্বজনদের পরীক্ষার দিনগুলোতে পরীক্ষার্থী বন্ধুদের সঙ্গে সুখ-দুঃখের সাথী হতে হবে। ইতোমধ্যে এস.এস.সি পরীক্ষায় সৃজনশীল পদ্ধতি চালু হয়েছে- এবার আরও অধিক সংখ্যক বিষয়ে সৃজনশীল পদ্ধতি যোগ হয়েছে। সুতরাং আমার মনে হয় তোমরা এ ক্ষেত্রে যতটা পারদর্শিতা ও দক্ষতা অর্জন করবে- তত বেশি ভালো নম্বর পেয়ে ভালে েফলাফল আশা করতে পারো। এজন্য তোমাদের পাঠ্যবই ঠিকভাবে পড়বে- যাতে করে তোমরা সঠিক উত্তর দিতে পারো। সৃজনশীল বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে আন্তরিক ও মনোযোগী হতে হবে। এক্ষত্রে গাইড কিংবা নোটবই অথবা কোচিং সাজেশন এর উপর নির্ভর না করে বিষয়ভিত্তিক পাঠ্যপুস্তক-এর উপর অধিকতর মনোযোগী হতে হবে। সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরসমূহ যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত এবং মূল ভাবধারাটুকু প্রকাশ করতে পারলে পরীক্ষকগণের পক্ষে ভাল নম্বর প্রদানের বিরাট সুযোগ থাকে। আমার মনে হয় সৃজনশীল বিষয় নিয়ে অযথা তোমাদের দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। এক্ষেত্রে ভয়ভীতি পরিহার করা সবচেয়ে উত্তম। সামগ্রীকভাবে সময়ের ব্যাপারে সতর্ক এবং সচেতন থাকতে হবে। এর মধ্যে শেষের কয়েক মিনিট উত্তরপত্র রিভিশন দেয়ার সুযোগ যেন অবশ্যই থাকে। যাতে করে তোমাদের ছোট-খাটো ভুলত্রুটিগুলো সংশোধন করার সুযোগ পাও। বিশেষ করে গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ভিত্তিক এবং বাংলা ও ইংরেজিসহ গ্রামার সংবলিত উত্তরগুলো অধিকতর মনোযোগী হয়ে রিভিশন দেবার প্রয়োজন আছে। পরীক্ষার্থী বন্ধুরা স্কুল মাধ্যমিক ফাইনাল পরীক্ষা- প্রতিটি পরীক্ষার্থীদের কাছে অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এ পরীক্ষার ভালে েফলাফলের উপর নির্ভর করছে উচ্চ মাধ্যমিক একাদশ শ্রেণিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবার বিরাট সুযোগ।