প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, পরীক্ষা হবে সৃজনশীল পদ্ধতিতে। সৃজনশীল প্রশ্নে প্রতিটি ক, খ, গ ও ঘ এই চারটি অংশ থাকে। ক অংশে জ্ঞানমূলক, খ অংশে অনুধাবন, গ অংশে প্রয়োগ, ঘ অংশে উচ্চতর দক্ষতা। এই চার ধাপে উত্তর প্রদান করতে হবে। আর এজন্য একজন ছাত্রের পুরো বই সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে। সামাজিক বিজ্ঞানে মোট ৯টি সৃজনশীল প্রশ্ন হতে ৬টি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করতে হবে। ৬টি প্রশ্নের প্রতিটিতে ৪টি করে ছোট-বড় মোট ৪–৬=২৪টি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। প্রতিটি প্রশ্নের জন্য বরাদ্দ থাকে ১০ নম্বর। আর এই ১০ নম্বরের একটি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লিখতে একজন শিক্ষার্থী সময় পাবে সর্বোচ্চ ২০ মিনিট। তাই ঘড়ি ধরে নির্ধারিত সময়ে উত্তর লিখার অভ্যাস করা উচিত। দেখা যায়, প্রথম প্রশ্নের উত্তর লিখতেই শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি সময় নষ্ট করে ফেলে। ফলে পরীক্ষার শেষ দিকে সব প্রশ্নের উত্তর লেখা সম্ভব হয় না। কিংবা শেষ দিকের উত্তরগুলোর মান যথাযথ হয় না, এজন্য সামগ্রিক মান বজায় রেখে সময়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে উত্তর লেখার অনুশীলন করা উচিত। আর সব প্রশ্নের উত্তর লিখতে না পারলে সামাজিক বিজ্ঞানে A+ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। সবার আগে প্রশ্নটি ভালোভাবে পড়তে হবে। বিশেষ করে উদ্দীপকগুলি। তারপর প্রশ্নের সাথে সঙ্গতি রেখে উত্তর লিখতে হবে। এক্ষেত্রে ভালো জানা উত্তরগুলো আগে লিখতে হবে। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। সৃজনশীল পদ্ধতির পরীক্ষায় প্রশ্ন বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কৌশলী হতে হবে। যেমন- কিছু কিছু প্রশ্ন আছে উত্তর আকারে ছোট অর্থাত্ কম লিখলেই বেশি নম্বর পাওয়া যায়। আবার একইভাবে বিকল্প প্রশ্নের উত্তর বড় অথচ নম্বর একই। সেক্ষেত্রে আকারে ছোট উত্তরটি বেছে নেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- যদি প্রশ্নে থাকে- রাষ্ট্রের উপাদানগুলো বর্ণনা কর। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ৪টি মাত্র উপাদান বর্ণনা করলেই পুরো নম্বর পাওয়া যাবে। আবার যদি প্রশ্ন হয় জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণগুলো বর্ণনা কর। এক্ষেত্রে উত্তরের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। এক্ষেত্রে উত্তরটি হবে বেশ বড়। যে যত বেশি পয়েন্ট সুন্দর করে লিখবে সে নম্বরও বেশি পাবে। এজন্য প্রশ্ন বাছাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সামাজিক বিজ্ঞান প্রশ্নে ৩টি বিভাগ থাকে। ক বিভাগ সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস, পৌরনীতি অংশ, খ বিভাগ- অর্থনীতি, জনসংখ্যা, গ বিভাগ- ভূগোল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা। ক-বিভাগ থেকে কমপক্ষে ২টি এবং খ, গ বিভাগ থেকে ১টি করে মোট ৬টি প্রশ্নের উত্তর দিলেই হলো। তাই এক্ষেত্রে কিন্তু তোমাদের বেশ সুযোগ আছে। অনেক পরীক্ষার্থীর কাছে ভূগোল কিংবা ইতিহাস অংশ একটু কঠিন লাগে, তারা এর যে কোনো একটি অংশ বাদ দিলেও পূর্ণমান উত্তর করতে পারবে।
