এসএসসি পরীক্ষার্থী বন্ধুরা, সৃজনশীল পদ্ধতিতে ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে রচনামূলক দুটো অংশ থাকবে। ক অংশ (আকাইদ ও শরিয়াত-এর উত্স) খ অংশ (ইবাদাত, আখলাক ও জীবনাদর্শ)। ক অংশ হতে ৪টি এবং খ অংশ হতে ৫টি মোট ৯টি প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি অংশ হতে তিনটি করে মোট ৬টি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে।
সৃজনশীল প্রশ্ন
সৃজনশীল প্রশ্নের শুরুতেই একটি উদ্দীপক থাকবে। আর ঐ উদ্দীপকের আলোকেই থাকবে চারটি প্রশ্ন। যা পর্যায়ক্রমে জ্ঞান, অনুধাবন, প্রয়োগ ও উচ্চতর চিন্তন দক্ষতা স্তর থেকে থাকবে। প্রতিটি সৃজনশীল প্রশ্নের জন্য ১০ নম্বর থাকবে।
জ্ঞানমূলক: প্রথম অংশটি হবে জ্ঞানমূলক। যা হবে অতি সহজ। নিতান্তই স্মৃতিনির্ভর। জ্ঞান স্তরের প্রশ্নের উত্তর সরাসরি পাঠ্যবইয়ে পাওয়া যাবে। তাই পাঠ্যপুস্তকের আলোকেই লিখতে হবে। এ অংশে কোনো ঘটনা তথ্য, তত্ত্ব, নীতিমালা, প্রকারভেদ প্রভৃতি মুখস্থ করে লিখতে পারার দক্ষতা যাচাই করা হয়। এ স্তরের প্রশ্নে কে, কী, কখন, কোথায়, সংজ্ঞা দাও উল্লেখ করে প্রভৃতি থাকবে। এ অংশের জন্য ১ নম্বর থাকবে। যেমন- তাওহিদ শব্দের অর্থ কী, আখিরাত কী, আদলের বিপরীত শব্দ কী ইত্যাদি।
অনুধাবনমূলক : অনুধাবন হলো কোনো কিছু স্মরণ করার দক্ষতা। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু অনুধাবন করার ক্ষমতা যাচাই করা হয়। এতে পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন ঘটনা বা বিষয়বস্তু বিবরণ দেয়া থাকে। এ স্তরে শিক্ষার্থীদের বিষয়বস্তু সম্পর্কে নিজের ভাষায় সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করতে হয়। এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য জ্ঞান স্তরের তুলনায় অধিকতর দক্ষতা প্রয়োজন। সাধারণত দৃশ্যকল্প ভিত্তি করে প্রশ্নটি করা হয়। এ অংশের জন্য ২ নম্বর থাকবে। তোমরা দুটো প্যারায় উত্তর লিখবে। যেমন- প্রশ্নে আসতে পারে ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত বলার কারণ কী, তাকওয়া বলতে কী বুঝায় ইত্যাদি।
প্রয়োগমূলক: আগে শেখা বিষয়কে নতুন কোনো পরিস্থিতিতে ব্যবহার করার দক্ষতা যাচাই করা হয় এ স্তরে। সৃজনশীল প্রশ্নের এ অংশটি পুরোপুরি উদ্দীপকের ওপর নির্ভরশীল। এ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের উদ্দীপকে ফিরে যেতে হবে। প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠ্যপুস্তকে থাকে। পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তু ভালোভাবে পড়লে উদ্দীপকের নতুন পরিস্থিতির আলোকে তোমরা তোমাদের প্রায়োগিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে সক্ষম হবে। এ প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় অবশ্যই উদ্দীপকের আলোকে লিখতে হবে। এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর সরাসরি বইয়ে পাওয়া যাবে না। তাই উত্তর লেখার আগে তোমাদের উদ্দীপকটি ভালো করে পড়ে নিতে হবে। প্রয়োগ স্তর বোঝাতে পারলেই পুরো নম্বর তোমরা পাবে। উত্তর প্যারা করে লিখতে হবে। এ স্তরে প্রশ্নের উত্তর তোমরা তিনটি প্যারায় লিখবে। এ অংশের জন্য ৩ নম্বর থাকবে।
উচ্চতর দক্ষতামূলক: এ অংশের প্রশ্নের উত্তর করার জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য ব্যবহার করে শিক্ষার্থী তার বিচার-বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মূল্যায়ন ও দক্ষতা প্রকাশের সুযোগ পাবে। এ প্রশ্নের উত্তরও উদ্দীপকের আলোকে লিখতে হবে। এ অংশের উত্তর লেখার সময় প্যারা বা পয়েন্ট করে তোমরা লিখবে। বিচার-বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মূল্যায়ন করার সময় প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট কোরআন-হাদিস থেকে যে সকল উদ্ধৃতি তোমরা দিবে তা আরবিতে লিখবে। আরবি না লিখতে পারলে এর অর্থ (বঙ্গানুবাদ) অবশ্যই লিখবে। সেই সাথে কোন হাদিস গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে বা কোন সুরার কত নম্বর আয়াত তা উল্লেখ করবে। কোনোক্রমেই আরবির বাংলা উচ্চারণ লিখবে না। বিচার-বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা ও মূল্যায়নসহ এ প্রশ্নের উত্তর লিখতে পারলে পুরো ৪ নম্বরই পাওয়া যাবে।
